দোকান খোলা নিয়ে দ্বিধায় ব্যবসায়ীরা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৭ মে ২০২০ | ১৪:৩২
মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু প্রতিদিনই উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও আগামী ১০ মে থেকে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। যদিও দেশের সবচেয়ে বড় শপিংমল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে, চলমান এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রমজানে তারা শপিংমল খুলবেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খোলা নিয়ে বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন।
জননিরাপত্তার স্বার্থে বায়তুল মোকারম মার্কেট ঈদের আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতি। জুয়েলারি দোকান মালিক সমিতিও ঈদের আগে দোকান না খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশীদশসহ ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকান খোলা বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে ব্র্যান্ডের শপ আড়ং খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকার বাইরে সিলেটের ব্যবসায়ীরাও আছেন দ্বিধায়। কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকারম মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায় জানান, ঝুঁকি নিয়ে তারা দোকান খুলতে চান না। সবাই মিলে তারা দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, শর্ত মেনে আগামী ১০ মে থেকে সীমিত আকারে খুলবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আড়ং। প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশে থাকা ২১টি আউটলেটের মধ্যে ১৭টি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আড়ং খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। এদিকে সাদাকালো, কেক্র্যাফ্ট, অঞ্জন'স, নিপুণ, রঙ, অন্যমেলা, বাংলার মেলা, নবরূপা, নগরদোলা, দেশাল, .নীলাঞ্জনাসহ দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো খোলা হবে কিনা, সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড সাদাকালোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সাবেক সভাপতি আজহারুল হক আজাদ সমকালকে বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সারাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুক্রবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় বন্ধ থাকা দোকান ও বাণিজ্যিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, যেসব মার্কেট ও দোকান রমজানে বন্ধ রাখবে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশ্যই বেতন-ভাতা পাবেন। প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতি অনুরোধ, তারা দৈনিকভিত্তিক শ্রমিক নয়। তারা বেতনভুক্ত চাকরিজীবী। তাদের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতা করে বেতন-ভাতা পরিশোধ করবেন।
দোকান খোলা নিয়ে সিলেটের ব্যবসায়ীরা দ্বিধায় আছেন বলে জানিয়েছে আমাদের সিলেট ব্যুরো অফিস। ব্যুরো জানায়, দোকান খুললে করোনা সংক্রমণ বাড়ার ভয় পাচ্ছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে এক দফা বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। আবার নগরীর কোনো কোনো মার্কেট ও এলাকার ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ঈদের আগে নগরীর বিউটি পার্লার, সেলুন ও সোনার দোকানও খুলছে না- এটা চূড়ান্ত।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার বিকেলে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতি, দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নেতাদের নিয়ে সভা করবে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এ সভায় করোনা পরিস্থিতিতে আগামী রোববার (১০ মে) থেকে নগরীর দোকানপাট-মার্কেট খোলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এই সভায় শেষ পর্যন্ত দোকানপাট-মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত হলেও নগরীর অনেক ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় আড়ং, মাহাসহ অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে প্রতি বছর ঈদের সময় উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দোকানপাট বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন নয়াসড়ক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম ও হোসেইন আহমদ।
সিলেট নগরীর অন্যতম বৃহৎ শপিংমল আল হামরা শপিং সিটি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল আলম বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী মার্কেট খোলার বিপক্ষে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কেট বন্ধ রাখার পক্ষে। মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ মখন মিয়া বলেন, এ পরিস্থিতিতে দোকানপাট খোলা হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, এখন মার্কেট বন্ধ রাখাই ভালো।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর মতামত মার্কেট যেন বন্ধ থাকে। এ অবস্থায় মার্কেট খোলা ঠিক হবে না।
আমাদের কুমিল্লা অফিস জানায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঝুঁকি এড়াতে কুমিল্লায় সব শপিংমল, শোরুম, ব্যান্ডশপ, মার্কেট ও বিপণিবিতান ঈদ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খোকন এ সিদ্ধান্ত জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লা মহানগরীতে সম্প্রতি কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে, ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে। তাই আগামী ঈদুল ফিতর পর্যন্ত সব শপিংমল, শোরুম, ব্যান্ডশপ, মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।