প্রাথমিক-মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাসস
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০০:৪১
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।’ তিনি বলেছেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের সময় শুধু বিল্ডিং হয়েছে। কিন্তু হিউম্যান রিসোর্সের কোনো উন্নতি হয়নি। আমরা যদি আমাদের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি শিক্ষকদেরকে সঠিকভাবে ট্রেনিং দিতে না পারি, শুধু ট্রেনিং নয়, ট্রেনিংয়ের সঙ্গে তাদের সম্মানি যদি বৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে আমরা তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের সেকেন্ডারি এবং প্রাইমারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা শিক্ষকদের সন্মানি বাড়ানো প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। এ কাজটি অবশ্যই করবো ইনশাআল্লাহ।’
বুধবার বিকেলে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা সংসদকে জানান।
কেনো শিক্ষকদের সন্মানি বাড়ানো প্রয়োজন তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক সময় দেখেছি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা তাড়াতাড়ি করে ক্লাস করে হয়ত আরেকটি সেকেন্ডারি কোনো জবে অথবা কৃষি কাজে যেটাই হোক একটি সেকেন্ড জবে তাকে যেতে হয়। তা না হলে তার জন্য সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেকেন্ডারি স্কুলের ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি, এ রকম ঘটনা ঘটে। এই কাজটি যাতে শিক্ষকদের না করতে হয় এবং তারা যাতে সঠিকভাবে তাদের সময় এবং তাদের মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন সেজন্য তাদের সম্মানি বাড়ানো প্রয়োজন।’
চলতি বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ শিক্ষাখাতে প্রদানের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চার জন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে ড্রেস ও স্কুলে ব্যাগ দেওয়া হবে।’
সংসদ সদস্য শাম্মী আখতারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদেরকে স্কুল ড্রেস প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহন করেছি। একই সঙ্গে তাদেরকে স্কুল ব্যাগও দেবো।’
তিনি আরও বলেন, আমি সংসদে সব সংসদকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই। আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের সরকারি প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে এই ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখের মতো ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত বাচ্চাকেদেরকে স্কুল ড্রেস প্রদানের পরিকল্পনার ভিতর নিয়ে আসবো পর্যায়ক্রমে। সব সংসদ সদস্যের এলাকাতেই আমরা যাব, ইনশাআল্লাহ। এবং সব বাচ্চাদের কাছেই আমরা পৌঁছানোর চেষ্টা করব।’
চীনে কাঁঠাল রপ্তানি প্রসঙ্গে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চীন সফরে আমরা তাদের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমাদের দেশে যে কাঁঠাল এটি অত্যন্ত পপুলার। চাইনিজ মানুষরা খুব পছন্দ করে কাঁঠাল। আমরা এই দেশ থেকে তাদের কাছে কাঁঠাল রপ্তানি করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখান প্রসঙ্গক্রমে আরেকটি কথা বলি, চীন সফরের আগে আমি মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কথা প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়েছেন, উনাদের ওখানে একটি ফল হয় ডুরিয়ান দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মত। কথা প্রসঙ্গে উনি আমাকে জানিয়েছেন যে, মালয়েশিয়া প্রতি বছর চায়নাতে ওয়ান বিলিয়ন ডলারের ডুরিয়ান এক্সপোর্ট করে। তারা যদি পারে নিশ্চয়ই আমরা পারবো এক্সপোর্ট করতে এবং কাঁঠাল এক্সপোর্টের মাধ্যমে আমরা নিশ্চয়ই, ইনশাআল্লাহ। বড় একটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।’
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী