ব্যাংকের গাফিলতি
সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাননি ৩ জেলার মানুষ
শেখ আবদুল্লাহ
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৭ মে ২০২০ | ১৪:৩২
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা ছাড় করা হলেও ব্যাংকের গাফিলতিতে তা সময়মতো ভাতাভোগীদের কাছে পৌঁছায়নি। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের তিন জেলার বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা ও প্রতিবন্ধীরা কোনো ভাতা পাননি। এমনকি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়নি উপবৃত্তির অর্থ। সময়মতো ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব দরিদ্র মানুষ।
সম্প্রতি গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা ও লালমনিরহাট জেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা সরবরাহে এই অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতি ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাতা না পেয়ে এসব জেলার কয়েকজন ভাতাভোগী জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন। জেলা প্রশাসকরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখে ভাতা পাঠানো হয়েছে কিনা জানতে চান। তখনই ধরা পড়ে ব্যাংকের গাফিলতি।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ভাতা বাবদ সকল কিস্তির টাকা সময়মতো ছাড় করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে সর্বশেষ চতুর্থ কিস্তি ছাড় করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগে। সাধারণত তিন মাস শেষে কিস্তি ছাড় করা হয়। সর্বশেষ চতুর্থ কিস্তি ছাড় করা হয়েছে শেষ ত্রৈমাসিকের প্রথম মাস এপ্রিলে। ভাতার টাকা ছাড় করা হলেও গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা ও লালমনিরহাটের ভাতাভোগীরা গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত কোনো ভাতা পাননি।
জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলামকে চিঠি লিখে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ভাতাভোগীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। সে অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ভাতা বিতরণের দায়িত্বে থাকা পাঁচটি রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক ও তিনটি বেসরকারি ব্যাংককে চিঠি পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ ইসমাইল সমকালকে বলেন, কয়েকটি জেলায় সময়মতো ভাতা পরিশোধ না করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয় এর সুরাহা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যাবতীয় বকেয়া ভাতা একবারে পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মনিটরিংয়ের দুর্বলতার কারণে এমন হতে পারে। এ অবস্থায় দেশের অন্য কোথাও কোনো ভাতা বকেয়া আছে কি-না তা খুঁজে বের করতে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সারাদেশে ৪৪ লাখ বয়স্ক, ১৭ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী, ১৮ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দিয়ে থাকে। এছাড়া এক লাখ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি। বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতরা মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। প্রতিবন্ধীরা পান ৭৫০ টাকা। আর প্রতিবন্ধীদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা- এই চার ধাপে ৭৫০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা উপবৃত্তি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও মধুমতি ব্যাংক এসব ভাতা বিতরণ করে থাকে। ভাতাভোগীদের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকে। তিন মাস পরপর অথবা প্রাপক সুবিধা অনুযায়ী ভাতার বই জমা করে টাকা তুলতে পারেন।
এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ শামস উল ইসলাম সমকালকে বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ভাতা পরিশোধ বকেয়া নেই। কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানীয়া সমকালকে বলেন, মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানানো দুই দিনের মধ্যে সব ভাতাভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা করতে শাখাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি ব্যাংকে সাধারণত কোনো ভাতা আটকে থাকে না। কোথাও এমন কিছু ঘটে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত।
সূত্র জানায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত ভাতাভোগীদের করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় চতুর্থ কিস্তির ভাতার টাকা এপ্রিলের শুরুতেই ছাড় করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। যা জুনের শেষে ছাড় করার কথা। কিন্তু এখনও অনেক ভাতাভোগী তা হাতে পাননি। কারণ হিসেবে ব্যাংকগুলো বলছে লকডাউন পরিস্থিতির কথা। লকডাউনের কারণে অনেক ব্যাংক শাখা বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ভাতাভোগীদের ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয়নি। আবার অনেক জায়গায় ভাতাভোগীরাই ব্যাংক শাখা পর্যন্ত আসতে পারছেন না। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সর্বশেষ কিস্তির ভাতার টাকা পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।