বিশেষ মন্তব্য
আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকতে হবে
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, উপদষ্টো, করোনা প্রতরিোধ জাতীয় কমটিি
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৭ মে ২০২০ | ১৪:৩৯
চীনের উহান শহর থেকে সৃষ্ট প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। অজানা এই ভাইরাস নিয়ে সর্বত্রই এক ধরনের আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এটি বৈশ্বিক স্ব্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। করোনাপ্রতিরোধী ওষুধ ও ভ্যাকসিন আবিস্কারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ নামিদামি গবেষণাগারের গবেষকরা হন্যে হয়ে ছুটছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আশার খবর শোনাতে পারেনি কেউ। উদ্ভূত পরিস্থিতি করোনা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো রেমডিসিভির নামে একটি ওষুধ বাজারে এনেছে। সেদেশের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই ওষুধের কার্যকারিতাকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশেও এই রেমডিসিভির উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি। কয়েকটি ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই সুখবর আসবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় মৃত্যুহার ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। বাংলাদেশে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর বিপরীতে সুস্থতার হার ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সুতরাং এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আমাদের কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। ঘরে অবস্থান করতে হবে। এগুলো যথাযথভাবে মেনে চললেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হবে।
জ্বর দিয়ে এ রোগের লক্ষণ শুরু হয়। জ্বরের সঙ্গে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা থাকতে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। সুতরাং আক্রান্ত ব্যক্তিকে নূন্যতম ১৪ দিন আলাদা করে রাখতে হবে। একই সঙ্গে যারা আক্রান্ত হননি, তাদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। তবে মানুষের দেহে ভাইরাসটি সংক্রমণের পর এক থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিনের মধ্যে এমনতিইে সেরে যায়। কিন্তু কিডনি, ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্র কিংবা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি নিউমোনিয়া, রেসপাইরেটরি ফেইলিউর অথবা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে মোড় নিতে পারে। এতে করে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের রোগীরা আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন। ভালো থাকুন, নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলুন।