মিয়ানমার থেকে আসতে পারে আরও বিজিপি
রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ ঢাকার
ফাইল ছবি
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০১:০৮ | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৮:২১
বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে গত রোববার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যরা। তাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয় ঢাকা। আগামী কয়েক দিন আরও বিজিপি সদস্য প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মিয়ানমার থেকে আসা মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশির মৃত্যুতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দেশটির ঢাকার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তলব করে ঢাকার পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। এখন পর্যন্ত আসা বিজিপি সদস্যদের ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে একটি কূটনৈতিক পত্রও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২২৯ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে এসেছে। এর মধ্যে আর কেউ এসেছে কিনা, জানা নেই। তবে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত। তাদের প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারে এবং পরে চট্টগ্রাম শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আমাদের দেশের অভ্যন্তরে ৩০টির মতো মর্টার শেল পড়েছে এবং এতে দু’জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে তাদের প্রবেশ, তাদের গোলাবারুদ এখানে এসে পড়া এবং আমাদের দেশের মানুষের আহত-নিহত হওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছি, সে প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। এটা আমরা জানিয়েছি। বাংলাদেশে প্রবেশ করা বিজিপি সদস্য ছাড়াও দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকও রয়েছে।
বেসামরিক মানুষের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তের কাছে পোস্টে যেসব বিজিপি সদস্য পরিবার নিয়ে থাকত, তাদের পরিবারের সদস্যরা এসেছে; তার বাইরে কেউ নয়।
মিয়ানমারের সংঘাতে বাংলাদেশ আর কতদিন ভুক্তভোগী হবে– জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। এটি গ্রহণযোগ্য নয়– সেটি জানিয়েছি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত তাঁর সরকারের কাছে আমাদের কড়া প্রতিবাদের বার্তাটি পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন।
ভারত সফরে মিয়ানমার ইস্যু আলোচনায় আসবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আমরা সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করব; যেহেতু মিয়ানমার ও ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এর আগে সব সময় ভারতের সহযোগিতা চেয়ে এসেছি। মিয়ানমার থেকে যাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা আমরা বহু আগে থেকেই চেয়েছি। সুতরাং এ বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লিতে অবস্থান করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মিয়ানমার সংকটের জন্য সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন– এমন প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যা বলেছেন, সেটা পাগলের প্রলাপ। তারা ভেবেছিলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিদেশিরা হস্তক্ষেপ করবে। কিন্তু তারা এখন হতাশ হয়ে এ ধরনের কথা বলছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, মিয়ানমার নৌপথে বিজিপি সদস্যদের ফেরত নেওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ এ পথে যাওয়ার সময় যদি বিদ্রোহীদের হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে, তার দায় বাংলাদেশর ওপর আসবে। তাই বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছে এসব সদস্যকে আকাশপথে ফেরত পাঠানোর।
এর আগে সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিক্টার ভেন্ডসেন এবং ভ্যাটিকানের দূত আর্চবিশপ কেভিন স্টুয়ার্ট র্যান্ডাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তাটি হস্তান্তর করেন। নরওয়ের সঙ্গে দূষণমুক্ত জ্বালানিতে সহযোগিতার পাশাপাশি ভ্যাটিকানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আলোচনা করেন মন্ত্রী।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ মিয়ানমার
