আম্পান পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিমান বাহিনী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২০ | ১৩:২১ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের’ এর আওতায় জাতীয় যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিমান বাহিনী জরুরি বিমান পরিবহন এবং মেডিকেল ইভাকোয়েশন সহায়তা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের দিক নির্দেশনায় বিমান বাহিনী জরুরি বিমান পরিবহন সহায়তার অংশ হিসেবে শুক্রবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, গণমাধ্যম কর্মীরা বিমান বাহিনীর ১টি এমআই-১৭এসএইচ হেলিকপ্টার, ১টি অগাস্টা-১৩৯ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপদ্রুত সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও ভাষানচর এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের উদ্দেশ্যে পরিদর্শন করেন। সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও ভাষানচর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশে এই পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে গণমাধ্যম কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান হয়।
বিমান বাহিনীর মেডিক্যাল ইভাকোয়েশন সহায়তা প্রদানের ধারাবাহিকতায় বিমান বাহিনীর ১১৯ জন সদস্য যারা আম্পান পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন। তারা শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় সাতক্ষীরার দক্ষিণ আলিপুর এলাকার মানুষদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তারা সেখানে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ির উপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে রাস্তাঘাট চলাচল উপযোগী এবং ঘরবাড়ি মেরামতের কাজে সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপদ্রুত এলাকার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের নিমিত্তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, জেনারেটর, ওয়াটার কন্টেনার, ইলেকট্রিক মোটর পাম্পসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়েছে।
আম্পান পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বিমান বাহিনী র্যাডার ইউনিট, মৌলভীবাজার এবং বিমান বাহিনী স্টেশন শমশেরনগর এলাকার এতিম শিশুদের মাঝে শুক্রবার মানবিক সহায়তা হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৬টি পরিবহন বিমান এবং ২৯টি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বাশার এ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল গঠনসহ বিমান বাহিনীর সকল ঘাঁটিতে ২৪ ঘণ্টা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য অপস্ রুম খোলা আছে।