ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

এমবাপ্পেদের ‘লাজুক’ ওলিসের গল্প শোনালেন তার শিক্ষকেরা

এমবাপ্পেদের ‘লাজুক’ ওলিসের গল্প শোনালেন তার শিক্ষকেরা
×

ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে। ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩১ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩২

গোল করার পর ফুটবলারদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া দৃশ্যটাই যেন ফুটবলের চিরচেনা ছবি। কেউ জার্সি খুলে দৌড় দেন, কেউ গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। কিন্তু মাইকেল ওলিসে একেবারেই ব্যতিক্রম। গোল করার পরও মুখে নেই কোনো উচ্ছ্বাস। এক হাত দিয়ে চোখ ও কান ঢেকে শান্তভাবে নিজের জায়গায় ফিরে যান। সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে অনীহা, স্পন্সরদের অনুষ্ঠানে চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ।

এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের এই উইঙ্গারের এমন স্বভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। কেউ তাকে অহংকারী বলছেন, কেউ উদ্ধত। এমনকি কেউ কেউ ভিত্তিহীনভাবে দাবি করছেন, তিনি হয়তো অটিজমে আক্রান্ত।

কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এমন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-এর এক প্রতিবেদক পৌঁছে যান ইংল্যান্ডের হেইস শহরে, যেখানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ওলিসের। কথা বলেন তার শৈশবের শিক্ষকদের সঙ্গে। তাদের বর্ণনায় উঠে আসে একেবারেই ভিন্ন এক মাইকেল ওলিসে। যিনি অহংকারী নন, বরং ভীষণ লাজুক ও অন্তর্মুখী।

ছবি- এএফপি

ওলিসের প্রাথমিক বিদ্যালয় ডক্টর ট্রিপলেটস চার্চ অব ইংল্যান্ড স্কুল-এর প্রধান শিক্ষক র‍্যাচেল অ্যান্ডারসন বলেন, ‘মানুষ যখন বলে ও অহংকারী, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। ও মোটেও এমন নয়। ও ভীষণ লাজুক। ক্লাসে কোনোদিন হাত তুলত না, কারণ নিজের দিকে কারও মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইত না। মাথা নিচু করে নিজের কাজ করত, আর ঘণ্টা বাজলেই ছুটে যেত ফুটবল খেলতে। ফুটবলই ছিল ওর পৃথিবী।’

মাঠে গোল করার পর ওলিসের যে নির্বিকার উদযাপন দেখা যায়, সেটিও তার ছোটবেলার স্বভাব। অ্যান্ডারসনের ভাষায়, ‘কেউ গোলের জন্য অভিনন্দন জানালে ও ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ‘চুপ’ করার ইশারা করত, তারপর আবার খেলতে চলে যেত। আজও টেলিভিশনে ওকে দেখে আমার মনে হয়, ছোটবেলার মাইকেল একটুও বদলায়নি।’

ওলিসের সাবেক শিক্ষক ড্যানিয়েল কোকারও মনে করেন, খুব ছোট বয়সেই আলাদা প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন তিনি। কোকার জানান, ‘ওর বয়স তখন ছয় বছর। একজন এসে বলেছিলেন, ‘এই ছেলেটাকে দেখেছ? একদিন অনেক বড় ফুটবলার হবে।’

ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও দারুণ প্রতিভাবান ছিলেন ওলিসে। এক স্কুল ম্যাচে কর্নার কিক থেকে দুই পায়ে দুটি অলিম্পিক গোলও করেছিলেন তিনি। স্থানীয় ক্লাব হেইস অ্যান্ড ইয়াডিং ইউনাইটেড-এ খেলতে গিয়ে বর্তমান ইংল্যান্ড তারকা বুকায়ো সাকার বিপক্ষেও খেলেছেন একাধিকবার।

লন্ডনে জন্ম নেওয়া ওলিসের বাবা নাইজেরিয়ান, মা ফরাসি-আলজেরিয়ান। ফলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, নাইজেরিয়া ও আলজেরিয়ার হয়েও খেলার সুযোগ ছিল তার সামনে। তবে শিক্ষকদের দাবি, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ফ্রান্সের জার্সি গায়ে তোলা।

ইংল্যান্ডে বড় হওয়ায় তার ফরাসি উচ্চারণে ব্রিটিশ টান রয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে তাকে। তবে ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি বরাবরই ওলিসের পাশে থেকেছেন। অঁরির ভাষায়, ‘মানুষ আসলে ওলিসেকে বোঝে না। ক্যামেরার সামনে ও চুপচাপ থাকতে পারে, কিন্তু জীবন আর ফুটবল নিয়ে ওর দৃষ্টিভঙ্গি অসাধারণ।’

বিশ্বতারকা হয়ে গেলেও হেইস শহরের মানুষের কাছে ওলিস এখনো সেই আগের ছেলেটাই। স্থানীয়রা এখনো চান, একদিন তিনি ফিরে এসে শহরের মানুষের সঙ্গে দেখা করুন। অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আমরা জানি, ও কোনোদিন শত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেবে না। কিন্তু তাতে কী? ও এখনো আমাদের সবার প্রিয় মাইকেল। এবারের বিশ্বকাপে যদি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্সও খেলে, আমি কিন্তু মাইকেলের জন্যই ফ্রান্সকে সমর্থন করব।’

আরও পড়ুন

×