ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

গ্রামে বিবর্ণ ঈদ

গ্রামে বিবর্ণ ঈদ
×

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরবাটার একটি বাড়িতে মসজিদে না গিয়ে উঠানে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা -সমকাল

জাহিদুর রহমান

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ | ০৭:০৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

নোয়াখালী শহরের দক্ষিণে উপকূলীয় জনপদ সুবর্ণচর। ধান-সবজি আর মাছে ভরপুর এই গ্রামে উৎসব পার্বণে আন্দনের সীমা থাকে না। নিরিবলি গ্রাম ঈদের আগে কোলাহলে ভরে উঠে। গ্রামের মেঠোপথে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে নাড়ির টানে মানুষ ছুটে যান। এই সময়টাতে গ্রামীণ অর্থনীতিও বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠে। সাজ সাজ রব তৈরি হয়। গ্রামের কাপড়ের দোকান ও মুদির দোকানগুলোতে থাকে প্রচুর ভিড়। কিন্তু এবারের ঈদ সুবর্ণচরের মানুষের জন্য খুশি নিয়ে আসেনি। 

বুধবার ছুটি কাটিয়ে সুবর্ণচর থেকে ঢাকায় ফিরেছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সলিম উল্যাহ। গ্রামের বিবর্ণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঈদে ঘর থেকেও বের হয়নি। মানুষের মনে এবার আনন্দ ছিল না। গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খুবই খারাপ। ফলে ঈদের আনন্দ কাউকে স্পর্শ করেনি। 

শুধু সুবর্ণচর নয় করোনা মহামারির কারণে ঈদে এবার দেশের কোনো  গ্রামেই আনন্দ ছিল না। দুই মাস ধরে মানুষের কাজ নেই। তাদের হাতে টাকাপয়সাও নেই। যারা গ্রামে ঈদ করতে এসেছেন তারাও অজানা এক আতঙ্কে কারও সঙ্গে মিশতে পারেননি না। ঈদগাহে এবার সবাই একসঙ্গে নামাজও পড়তে পারেনি। সুবর্ণচরে সতর্কতার অংশ হিসেবে অনেকে বাড়িতেই পারিবারিক আবহে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। মুসুল্লিরা মসজিদে না গিয়ে বাড়ির উঠানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামাজ পড়েছেন। এভাবে অনেক গ্রামেই বাড়িতে নামাজ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মানুষ সব বিভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলিও করতে পারেনি। গত শ বছরের ইতিহাসে ঈদকে এমন জাকজমকহীন ও জৌলুশহীন হতে দেখা যায়নি।

সুবর্ণচরের স্থানীয় সাংবাদিক কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদে আমেজ নেই। ঈদ করতে ঢাকা থেকে লোকজনও কম আসছে। মানুষের মনে আনন্দের চেয়ে শঙ্কাই বেশি। কারণ দীর্ঘদিন গ্রামীণ এই জনপদ করোনামুক্ত থাকলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এখানে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। করোনাভাইরাসে কোন ফাঁকতালে গ্রামে-গঞ্জে ঢুকে পড়ে সেই ভয়ে মানুষ ঈদ করতে পারেনি। তাছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজকর্ম বন্ধ থাকায় কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে মানুষের মনে আনন্দ নেই।

একই কথা বলছিলেন ঢাকার অদূরের কেরানীগঞ্জের কাঠালতলী গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতি বছর গ্রামে ঈদের বন্যা বয়ে যায়। পাড়ায় ছোট ছোট দোকান বসে। মাঠে মাঠে খেলাধুলা হয়। মানুষ এই বাড়ি, ওই বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এবার পুরো গ্রামের মানুষের মন বিষন্ন। ঈদে জামাকাপড় ও সেমাই-চিনি তো দূরের কথা ভাতও খেতে পারছে না মানুষ। কর্মহীন মানুষের কাছে এবার ঈদ মানেই একরাশ দুঃখ।

ঢাকা থেকে গ্রামে যাওয়া বেসরকারি চাকরিরজীবী আব্দুল হালিম বলেন, শহরের বাসায় কেউ না থাকায় ঠেকায় পড়ে গ্রামে এসেছি। কিন্তু গ্রামে আসার পর থেকে সবাই সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে। সবাই আমাদের দেখে দূরে সরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি করোনা নিয়ে গ্রামে এসেছি। এই এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।

এদিকে নিরানন্দ ঈদ কাটিয়ে ফের করোনা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সড়কগুলোতেও যাত্রীর চাপ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন

×