সারারাত লাশ নিয়ে বসে ছিল স্ত্রী-সন্তান
×
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
কুমিল্লার দেবিদ্বারে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির লাশ নিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানরা সারারাত বসে থাকলেও কেউ দাফন বা সহানুভূতি জানাতে এগিয়ে আসেনি। ১২ ঘণ্টা পর স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার উদ্যোগে লাশ দাফন করা হয়। মর্মন্তুদ আরেক ঘটনা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। এখানে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির লাশ দাফনে সহায়তার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ফোন করেন এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মারা গেছেন আরও ১৯ জন। এ নিয়ে সারাদেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৮৫ জনে। সমকালের ব্যুরো, অফিস ও সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মঙ্গলবার রাত ১০টায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাগুর পশ্চিমপাড়ার এক ব্যক্তি (৪৫) মারা যান। তিনি কয়েক দিন ধরে জ্বর-ঠান্ডা, কাশিসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী কেউ এগিয়ে আসেনি। লাশ নিয়ে সারারাত বসে ছিল স্ত্রী-সন্তানরা। খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে কুমিল্লা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকারের উদ্যোগে লাশ দাফন করা হয়।
চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক দিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামের বৃদ্ধ (৮০), একই এলাকার আরেক ব্যক্তি (৫৫), সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের কল্যান্দি গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং একই গ্রামের গৃহবধূ লাকী (৩৪)। নমুনা সংগ্রহ করে গতকাল স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মৃতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন বলেন, হাজীগঞ্জের বলিয়ায় নিহত ব্যক্তির মৃতদেহ রাতে বাড়িতে পড়ে থাকলেও এলাকার কোনো জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেননি। ভোরে আমি নিজে গিয়ে তাদের ফোন করি। তবুও তারা আসেননি। পরে থানায় রিপোর্ট করার কথা বললে তারা এগিয়ে আসেন। কিন্তু কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি এলাকাবাসী কবরটি পর্যন্ত করে দেয়নি। পুলিশের সহায়তায় উপজেলা দাফন কমিটি কবর খননের কাজ সম্পন্ন করে।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা (৭৪)। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশাদ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে একই ওয়ার্ডে করোনা উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৯ জনে।
করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার এক এএসআই। জ্বর ও ডায়রিয়া নিয়ে গত ১৯ মে থেকে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে ভর্তি করা হয় চমেক হাসপাতালে। ২৭ মে নমুনা পরীক্ষা করার পর তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান জানান, উপসর্গ থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য আবারও তার নমুনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান নগরীর সওদাগরটুলার একজন (৬৪) এবং সুনামগঞ্জের ছাতকের এক ব্যক্তি (৬৫)। হাসপাতালের আরএমও ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার রাতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে সুজানগর উপজেলার এক ব্যক্তি (৬৫) এবং চাটমোহর উপজেলায় আটলঙ্কা নতুনপাড়ার একজন (৬৫) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে গতকাল দুপুরে মারা যান এক নারী (৪৩)। তিনি সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের বাসিন্দা।
জ্বর, সর্দি ও গলাব্যথা নিয়ে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মঙ্গলবার বিকেলে মারা গেছেন সদরের বাসাইল গ্রামের এক ব্যক্তি (৩৮)। স্বজনরা হাসপাতাল থেকে লাশ না নেওয়ায় জেলা প্রশাসনের কুইক রেসপন্স টিম দাফনকার্য সম্পন্ন করে।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন এক নারী (৬০)। উপজেলার শালাইনগর পূর্বপাড়া গ্রামের জামাতার বাড়িতে গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার জামনগর রওশনগিরিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আরেফিন জানান, ওই নারী হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতে পারেন। তারপরও তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
গতকাল সকালে জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে পটুয়াখালীর আড়াইশ' শয্যা হাসপাতালে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার (৬২) মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৬৫) মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে তীব্র শ্বাসকষ্টে মারা যান। তার পেশা ছিল টিয়া পাখি দিয়ে মানুষের ভাগ্য গণনা করা।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে মঙ্গলবার মধ্যরাতে অশীতিপর এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর লামুয়া গ্রামে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভেবলা গ্রামে ভগ্নিপতির বাড়িতে গতকাল ভোরে মারা গেছেন এক গার্মেন্টকর্মী (৩৫)। তার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগডা ইউনিয়নের ঘোষেরপাড়া গ্রামে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক ব্যক্তি (৪৪)। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইগাছী গ্রামে।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাগুর পশ্চিমপাড়ার এক ব্যক্তি (৪৫) মারা যান। তিনি কয়েক দিন ধরে জ্বর-ঠান্ডা, কাশিসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী কেউ এগিয়ে আসেনি। লাশ নিয়ে সারারাত বসে ছিল স্ত্রী-সন্তানরা। খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে কুমিল্লা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকারের উদ্যোগে লাশ দাফন করা হয়।
চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক দিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামের বৃদ্ধ (৮০), একই এলাকার আরেক ব্যক্তি (৫৫), সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের কল্যান্দি গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং একই গ্রামের গৃহবধূ লাকী (৩৪)। নমুনা সংগ্রহ করে গতকাল স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মৃতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন বলেন, হাজীগঞ্জের বলিয়ায় নিহত ব্যক্তির মৃতদেহ রাতে বাড়িতে পড়ে থাকলেও এলাকার কোনো জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেননি। ভোরে আমি নিজে গিয়ে তাদের ফোন করি। তবুও তারা আসেননি। পরে থানায় রিপোর্ট করার কথা বললে তারা এগিয়ে আসেন। কিন্তু কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি এলাকাবাসী কবরটি পর্যন্ত করে দেয়নি। পুলিশের সহায়তায় উপজেলা দাফন কমিটি কবর খননের কাজ সম্পন্ন করে।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেছেন এই মুক্তিযোদ্ধা (৭৪)। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশাদ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে একই ওয়ার্ডে করোনা উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৯ জনে।
করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার এক এএসআই। জ্বর ও ডায়রিয়া নিয়ে গত ১৯ মে থেকে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে ভর্তি করা হয় চমেক হাসপাতালে। ২৭ মে নমুনা পরীক্ষা করার পর তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান জানান, উপসর্গ থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য আবারও তার নমুনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান নগরীর সওদাগরটুলার একজন (৬৪) এবং সুনামগঞ্জের ছাতকের এক ব্যক্তি (৬৫)। হাসপাতালের আরএমও ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার রাতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে সুজানগর উপজেলার এক ব্যক্তি (৬৫) এবং চাটমোহর উপজেলায় আটলঙ্কা নতুনপাড়ার একজন (৬৫) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে গতকাল দুপুরে মারা যান এক নারী (৪৩)। তিনি সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের বাসিন্দা।
জ্বর, সর্দি ও গলাব্যথা নিয়ে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মঙ্গলবার বিকেলে মারা গেছেন সদরের বাসাইল গ্রামের এক ব্যক্তি (৩৮)। স্বজনরা হাসপাতাল থেকে লাশ না নেওয়ায় জেলা প্রশাসনের কুইক রেসপন্স টিম দাফনকার্য সম্পন্ন করে।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন এক নারী (৬০)। উপজেলার শালাইনগর পূর্বপাড়া গ্রামের জামাতার বাড়িতে গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার জামনগর রওশনগিরিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আরেফিন জানান, ওই নারী হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতে পারেন। তারপরও তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
গতকাল সকালে জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে পটুয়াখালীর আড়াইশ' শয্যা হাসপাতালে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার (৬২) মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের এক ব্যক্তি (৬৫) মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে তীব্র শ্বাসকষ্টে মারা যান। তার পেশা ছিল টিয়া পাখি দিয়ে মানুষের ভাগ্য গণনা করা।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে মঙ্গলবার মধ্যরাতে অশীতিপর এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর লামুয়া গ্রামে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভেবলা গ্রামে ভগ্নিপতির বাড়িতে গতকাল ভোরে মারা গেছেন এক গার্মেন্টকর্মী (৩৫)। তার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগডা ইউনিয়নের ঘোষেরপাড়া গ্রামে।
গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক ব্যক্তি (৪৪)। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ইগাছী গ্রামে।