ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

‘নকলের’ সুযোগ না পেয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর

চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২০:১৯ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২০:৪৩

ভোলার চরফ্যাসনের ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসির আইসিটি পরীক্ষায় নকল করতে না পেরে কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে জোটবদ্ধ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে কলেজ গেট ও কলেজের অফিস কক্ষে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।

হামলার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও একাধিক শিক্ষক ও পথচারী আহত হয়েছেন। তবে কোনো শিক্ষার্থী হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে চরফ্যাসন থানার পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

জানা যায়, চরফ্যাসন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। প্রশ্নপত্র কক্ষে পৌঁছানোর পরপরই ১০৪ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন কমন না পাড়ায় তারা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। ওই উত্তেজনা পুরো কলেজ ছড়িয়ে পরে। পরে কেন্দ্রসচিব ও হল সুপারভাইজার ও ইউএনওর প্রতিনিধি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

কেন্দ্রসচিব ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, চরফ্যাসন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসির আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। আমাদের কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় শিক্ষার্থীরা কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়া শুরু করে। প্রশ্নপত্র কক্ষে পৌঁছানোর পরপরই ১০৪ নম্বর কক্ষের কিছু শিক্ষার্থী বিশৃঙ্খলা শুরু করলে আমরা কঠোরভাবে পরীক্ষার হলে দ্বায়িত্ব পালন শুরু করি। এতে অসদুপায় অবলম্বনে শিক্ষার্থীদের বিঘ্ন হয়। পরে পরীক্ষা শেষে তারা একত্রিত হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে মিছিল নিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে কলেজ গেট ভাঙচুর করে। ভেতরে ঢুকে কলেজ ক্যাম্পাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা কলেজের অফিস কক্ষের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

ইউএনওর প্রতিনিধি সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন জানান, কঠোরভাবে পরীক্ষার হলে দ্বায়িত্ব পালন করায় অসদুপায় অবলম্বনে শিক্ষার্থীদের বিঘ্ন হয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমনা আফরোজ বলেন, তাৎক্ষণিক আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বড় রকমের কোনো অনাক্ষাক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×