ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারে এখনও পানিবন্দী ৪ লাখ মানুষ

কক্সবাজারে এখনও পানিবন্দী ৪ লাখ মানুষ
×

ছবি: সমকাল/ইব্রাহিম খলিল মামুন

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২১:১২ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২১:১৩

ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত থাকলেও বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও পানি নামতে শুরু করেছে। তবে জেলার ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, দুর্গত এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা পৌঁছায়নি। 

তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলায় ৩০ লাখ নগদ টাকা এবং সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের কাছে ত্রাণসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। 

আজ শনিবার দুপুরে বন্যাদুর্গত পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এ কথা বলেন।

এর আগে সকালে জেলা প্রশাসক পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাংলাপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করে পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ, ওষুধ, মোমবাতি ও নিরাপদ পানি বিতরণ করেন। এ সময় পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে তিনি চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলার বেতুয়া বাজার স্টেশন এলাকা ও কোনাখালী ইউনিয়নের মরংগুনা এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী, জরুরি ওষুধ, মোমবাতি ও নিরাপদ পানি বিতরণ করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, চকরিয়া, পেকুয়াসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদ তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ নলকূপ ডুবে যাওয়ায় নিরাপদ পানির উৎস অচল হয়ে পড়েছে। ঘরে বুক থেকে কোমরসমান পানি থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ; ফলে শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে পারছে না বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গতদের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ পানিবন্দী হয়ে থাকলেও এখনও খাদ্য সহায়তা পৌঁছায়নি। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে ভুগছেন তারা।

চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে কোমরসমান পানি। রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। খাবার আর বিশুদ্ধ পানির জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। 

চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বলেন, তিন দিন ধরে পানিবন্দী। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারও পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে যা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা খুবই অপ্রতুল।  

আরও পড়ুন

×