ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাকায় আইএমএফ মিশনের বৈঠক কাল, আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বেতন-ভাতা

ঢাকায় আইএমএফ মিশনের বৈঠক কাল, আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বেতন-ভাতা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২২:০৭

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামীকাল রোববার থেকে সরকারের সঙ্গে পাঁচ দিনব্যাপী আলোচনা শুরু করবে। সফরে তারা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন ঋণ কর্মসূচি ও সম্ভাব্য অর্থায়ন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বাধীন মিশন ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবে। এ সময়ে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংস্কার কর্মসূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন।

সফরের প্রথম দিন অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভাব্য দ্বিতীয় রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) কর্মসূচির নীতিগত পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় উপাদান তুলে ধরবে। একই সঙ্গে আরএসএফের সম্ভাব্য কর্মসূচির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিনিধিদল প্রথম আরএসএফ এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের আওতায় বাস্তবায়িত সংস্কার কার্যক্রম ও অর্জনের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবে। দ্বিতীয় আরএসএফের আওতায় সম্ভাব্য সংস্কার কর্মসূচির পরিধি ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হবে।

প্রথম দিনেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আলোচনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, মূলধনী ব্যয়, বড় বিনিয়োগ প্রকল্প ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, অর্থায়নের উৎস, জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যমেয়াদী অনুমান, রাজস্ব আহরণের কৌশল, ব্যয়ের সীমা, ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নীতিমালা স্থান পাবে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, বাজেট, সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা, বেতন কাঠামো, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির চলতি অর্থবছর এবং মধ্যমেয়াদি ব্যয় নিয়েও আলোচনা করবে দুই পক্ষ।

সূত্র জানায়, সফরের পুরো সময়জুড়ে বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি, সার, খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি, বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ, আমদানি ব্যয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে আর্থিক লেনদেন এবং বিদ্যুতের শুল্ক আরও সমন্বয়ের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণ অর্থায়ন পরিকল্পনা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন, বৈদেশিক সরকারি ঋণের পরিমাণ ও গঠন, বৈদেশিক অর্থায়ন, ঋণ ছাড়, পাইপলাইনে থাকা ঋণ, ঋণ নবায়নের প্রয়োজন, বাণিজ্যিক ও রেয়াতবিহীন ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা, বৈদেশিক অর্থায়নের ঝুঁকি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং দাতা সংস্থাগুলোর রাজস্বনীতি নিয়েও আলোচনা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগের ঋণ কর্মসূচির অধীন সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনায় বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, মুদ্রানীতির কার্যক্রম আধুনিকীকরণ, ব্যাংক রেজুলেশন ও আমানত সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, আরএসএফের আওতায় জলবায়ু সংস্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পাওয়া গেছে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, আয়কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর, ভ্যাট যৌক্তিকীকরণ ও কর-ব্যয় সংস্কার সম্পন্ন করা, আর্থিক খাত সংস্কার কৌশল চূড়ান্ত করা, ব্যাংক পুনর্গঠন ও মূলধন জোগান নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুশাসন জোরদার করা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের ঝুঁকি এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতার সীমাবদ্ধতা।

সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধি দল তাদের মূল্যায়ন ওয়াশিংটনে আইএমএফ সদর দপ্তরে জমা দেবে। এরপর সংস্থাটি পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসতে পারে।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় ৪০০ কোটি থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন পাওয়া যেতে পারে। আগের ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি বিএনপি সরকার এগিয়ে নিতে চায় না। সরকারের মতে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত অনেক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নযোগ্য ছিল না। ওই কর্মসূচির আওতায় আইএমএফ মোট ৩৫৯ কোটি ৫০ লাখ  ডলার ছাড় করেছিল।

আরও পড়ুন

×