ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

মহাখালীতে ‘প্রেমিকার’ ছুরিকাঘাতে রেলওয়ে কর্মকর্তা খুন, গ্রামে ৭ মাসের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা

মহাখালীতে ‘প্রেমিকার’ ছুরিকাঘাতে রেলওয়ে কর্মকর্তা খুন, গ্রামে ৭ মাসের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা
×

নিহত মো. মামুন ভুঁইয়া

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪৪

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় ছুরিকাঘাতে আহত এক ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত মো. মামুন ভুঁইয়া (৩০) বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী। আজ শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিউটি আক্তার (৩০) নামে ওই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা উভয়েই বিবাহিত।

ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে মহাখালী টিবি গেট এলাকার ‘ছ’ ব্লকের ৮ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি কক্ষে। ওই বাড়ির মালিক সুমন মাহমুদ জানান, তাদের বাড়ির পাশেই ক্যানসার হাসপাতাল। তাদের চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় ও চতুর্থতলায় বাস করেন তারা। তৃতীয় ও নিচতলার কক্ষ গেস্টহাউজ হিসেবে দিন চুক্তিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন কিংবা চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের কাছে ভাড়া দেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বিউটি আক্তার নামে এক নারী রোগীর স্বজন পরিচয়ে তিনতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। রাতে বাসায় ওঠার সময় বিউটি বলেছিলেন, শনিবার সকালে তার স্বামী আসবেন। আজ সকাল ১০টার দিকে মামুন আসেন ওই বাসায় আসেন।

সুমন মাহমুদ বলেন, দুপুর একটার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নেমে দ্বিতীয় তলায় আমার শ্বাশুড়ির বাসায় ঢুকে বাঁচার আকুতি জানান। তার পেছনে বিউটিও ছুটে যান ওই বাসায়। এরপর বিউটিকে বাসায় আটকে রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বনানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিউটিকে আটক করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, আহত মামুনকে দুপুরে আমার শাশুড়ি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। পরে খবর পেয়ে আমিও হাসপাতালে যাই। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামুনের মৃত্যু হয়। 

পুলিশ জানায়, বিউটির স্বামী প্রবাসী। বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। একই জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মালিহাটি গ্রামে মামুনের বাড়ি। তারা পূর্ব পরিচিত। 

নিহত মামুনের চাচা মোকছেদ আলী ভুঁইয়া জানান, পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে মামুনের লাশ দেখতে পান। তিনি আরও জানান, মামুনের স্ত্রী শাহিনা আক্তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গ্রামের বাড়ি থাকেন। গত ১ জুলাই মামুন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে রেলওয়েতে চাকরিতে যোগ দেন। 

বনানী থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মামুন ও বিউটির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার মামুন ওই বাসায় বিউটির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় বিউটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় বিউটি তার পেটে ও পুরুষাঙ্গে ছুরিকাঘাত করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন

×