ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা

দেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
×

জেএসডি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৮ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ২২:২৯

বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল, শেষবারের মতো মানুষ তার জীবনবাজি রেখেছিল। তারপর মানুষ দেখল, এটা কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি। এটা বাংলাদেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ও অদ্ভুতভাবে কিছু নেই থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটা প্রকল্প। তখন স্বাভাবিকভাবেই গণমানুষ হাজারবার, লক্ষবার এবং কোটিবার চিন্তা করবে এমন গণঅভ্যুত্থানে আরেকবার যাওয়ার জন্য।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাব ছাড়া নারীরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় সেই পরিবেশ কেন রক্ষা হলো না? চব্বিশের অভ্যুত্থানের ঠিক পরই মুক্তিযুদ্ধের মুর্যায়ল ও ভাস্কর্যগুলো কারা ভাঙল? একাত্তর আর চব্বিশকে কেন মুখোমুখি করা হলো? 

গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী সময় দেশে ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেটা আগে জানলে কয়জন রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন? ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং প্রতারিত হয়েছে।

সভায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘৪৭, ৭১ ও ৯০ সালের আন্দোলনের পর জাতিগতভাবে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও আমরা প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকলেও ব্যর্থ হয়েছি। 

তিনি আরও বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আন্দোলনপরবর্তী অংশীজনদের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। নতুন রাজনীতির কথা বলা ব্যক্তিরাও বিভক্ত হয়েছেন। কয়েকটা আসনের জন্য বিএনপির দিকে অথবা সংস্কারের দোহাই দিয়ে কয়েকটা আসনের জন্য কেউ কেউ জামায়াতের দিকে চলে গেলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও পরে তা একটি ঐকমত্য কমিশনে সীমিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ছোট করা হয়েছে। জুলাই সনদ আর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, চব্বিশ পরবর্তী গণমানুষের বহুল আকাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা ছিল। সেটা এখনো উপেক্ষিত। সংস্কারের জনআকাঙ্ক্ষা অর্জিত না হলে বাংলাদেশ বারবার হোঁচট খাবে।

মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করা যত সহজ, অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। তাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সামনে এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিরল সুযোগ রয়েছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়া প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×