ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফেরায় বই বেড়েছে সাড়ে ৯ কোটি

পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফেরায় বই বেড়েছে সাড়ে ৯ কোটি
×

ফাইল ছবি

 বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৪ | ২৩:১৩

পরিমার্জন ও সংশোধন শেষে শুরু হয়েছে পাঠ্যবই ছাপার কাজ। আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৫ সাল) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপা হবে ৪০ কোটি ১৬ লাখ কপি বই। এর মধ্যে প্রাথমিকের বই ১২ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫২ কপি এবং মাধ্যমিকের ২৮ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ৩৩৭ কপি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, পহেলা জানুয়ারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় সরকার। কিন্তু সংশোধন ও পরিমার্জন করে এবার বই ছাপা শুরু হয়েছে দেরিতে। প্রথম লটের ছাপা শুরু হয় গত ২৭ অক্টোবর। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য এবার ছাপা হবে ৪০ কোটি ১৬ লাখ কপি বই। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ১২ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫২ কপি এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির অর্থাৎ, মাধ্যমিকের বই ২৮ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ৩৩৭ কপি। তাছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সাড়ে ৮ হাজারের বেশি ব্রেইল বই ছাপা হচ্ছে। 

চলতি ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ছাপা হয়েছিল ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭ কপি পাঠ্যবই। সেই তুলনায় এবার প্রায় সাড়ে ৯ কোটি বই বেশি ছাপা হচ্ছে। 
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রায় ৪১ লাখ ‘শিক্ষক সহায়িকা’ দেওয়া হবে। কয়েকটি লটে সব বই ছাপতে দেওয়া হবে। বই ছাপায় এবার সরকারের খরচ হবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শিক্ষার্থী বেড়েছে, ব্যাপারটি তা নয়। পুরোনো শিক্ষাক্রমে এমনিতেই বই বেশি। অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু আগের অর্থাৎ, ২০১২ সালে প্রণীত (সৃজনশীল) শিক্ষাক্রমে ফিরে গেছে, তাই বই বেড়েছে। তারা বলছেন, ২০২৩ সালে নতুন যে শিক্ষাক্রম চালু হয়, তাতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বই ছিল ১৫টি। আর পুরোনো শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ শ্রেণির বই ১৯টি। আবার নতুন শিক্ষাক্রমে নবম ও দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন নেই, কিন্তু পুরোনো শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য আলাদা বই। তাই এবার বেশি বই ছাপতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেরিতে ছাপা শুরু হওয়ায় বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে এ বছর মানসম্মত বই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ছাপাখানার মালিক বলেন, ‘কাগজ মিলের সিন্ডিকেট বন্ধ, পরিদর্শন এজেন্ট নিয়োগে সতর্কতা, গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে মনিটর, সেনাবাহিনীকে বইয়ের কিছু অংশ ছাপার দায়িত্ব দেওয়াসহ কয়েকটি উদ্যোগের কারণে এবার পাঠ্যবইয়ের মান ভালো হবে।’ তাঁর মতে, হাতে সময় খুব কম। স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এনসিটিবির উচিত দ্রুত ছাপাখানাগুলোকে কাজ দেওয়া। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। শেষ সময়ে একসঙ্গে সব লটের কার্যাদেশ দেওয়া হলে ছাপাখানার ওপর চাপ বাড়বে।

এনসিটিবি বলছে, এরই মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির সব বইয়ের পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করে ছাপাখানায় পাঠানো হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের পাণ্ডুলিপি এক সপ্তাহের মধ্যে ছাপাখানায় যাবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বইয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। তবে কবে এসব পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হবে, তা জানাতে পারেনি এনসিটিবি।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান সমকালকে বলেন, ‘বই পরিমার্জন ও সংশোধন চলছে। এবার এক দফা টেন্ডার বাতিল করতে হয়েছে দেশের পরিস্থিতির কারণে। তার পরও আশা করি, সব শিক্ষার্থী বছরের শুরুর দিনে নতুন বই হাতে পাবে।’
২০১০ সাল থেকে সরকার বছরের শুরুতে সারাদেশে সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনসিটিবি প্রতিবছর এ কাজ করে।

আরও পড়ুন

×