বিআরটিএকে মন্ত্রণালয়ের 'লোক দেখানো' নির্দেশ
×
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ১২:০০
গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে গাড়ির নিবন্ধন, রুট পারমিট বাতিলের সুযোগ নেই সড়ক পরিবহন আইনে। কিন্তু সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিবন্ধন, রুট পারমিট বাতিল করতে হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এ নির্দেশনাকে 'লোক দেখানো' বলছেন পরিবহন খাত সংশ্নিষ্টরা।
তারা বলেছেন, মন্ত্রণালয় আইনের ১২৪ ধারার ক্ষমতা বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু নির্দেশনা ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, কী শাস্তি দিতে হবে, তা আইনে স্পষ্ট করে বলা রয়েছে। তারপরও যে ক্ষমতা নেই, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া শুধুই লোক দেখানো।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ৬৭ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে গণপরিহন চালু হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাসের অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে ভাড়া বেড়েছে ৬০ ভাগ। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, কিছু পরিবহন দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। করোনাকালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের গণদুশমন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এই বক্তব্যের দিন, অর্থাৎ গত ৯ জুন বিআরটিএকে পাঠানো সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সরকারের নির্দেশনা ও সড়ক পরিবহন আইনের লঙ্ঘন। যেসব গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিট বাতিল করে মন্ত্রণালয়ের বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয় নির্দেশনায়।
কিন্তু আইন অনুযায়ী তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা। বহুল আলোচিত এই আইনটি গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই আইনের ১৬ থেকে ২৩ ধারা পর্যন্ত গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ও প্রক্রিয়া বলা। ২৪ ধারায় রেজিস্ট্রেশন বাতিলের বিধান রয়েছে। ২৪(১)-এ বলা হয়েছে, 'আইন বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো শর্তাবলীর শর্ত' লঙ্ঘনে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত ও বাতিল করা যাবে। আইন অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ আদালত রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে পারবেন না। বিআরটিএর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্যানেল শুনানি গ্রহণ করে রেজিস্ট্রেশন বাতিল কিংবা স্থগিত করতে পারবে। কিন্তু তারপরও রয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিলের সুযোগ।
আইনের ৩৪ ধারায় গণপরিবহনের ভাড়ার বিষয়ে বলা হয়ছে। ৩৪(৪) উপধারায় বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি কিংবা আদায় করা যাবে না। এ উপধারা লঙ্ঘনে অনধিক এক মাসের জেল বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। মিটারে চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে আইনে।
সপ্তাহখানেক আগে নির্দেশনা দেওয়া হলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারিমট বাতিল করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইউছুব আলী মোল্লা। তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়নি কোন ধারায় রেজিস্ট্রেশন, রুট পারিমট বাতিল করতে হবে। প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিআরটিএ তাই করছে। তার দাবি, আইনের ১০২ ও ১১৮ ধারা প্রয়োগ করে বাতিল করা যাবে।
কিন্তু এই দুটি ধারা রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট সংক্রান্ত নয়। ১১৮ ধারায় সরকারি আদেশ মেনে চলার বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে পরিবহন খাতে। তা লঙ্ঘনে অনধিক এক মাসের জেল ও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে ১০২ ধারায়। এ প্রসঙ্গে ইউছুব আলী বলেছেন, আইনে যা রয়েছে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তারা বলেছেন, মন্ত্রণালয় আইনের ১২৪ ধারার ক্ষমতা বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু নির্দেশনা ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, কী শাস্তি দিতে হবে, তা আইনে স্পষ্ট করে বলা রয়েছে। তারপরও যে ক্ষমতা নেই, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া শুধুই লোক দেখানো।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ৬৭ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে গণপরিহন চালু হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাসের অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে ভাড়া বেড়েছে ৬০ ভাগ। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, কিছু পরিবহন দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। করোনাকালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের গণদুশমন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এই বক্তব্যের দিন, অর্থাৎ গত ৯ জুন বিআরটিএকে পাঠানো সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সরকারের নির্দেশনা ও সড়ক পরিবহন আইনের লঙ্ঘন। যেসব গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিট বাতিল করে মন্ত্রণালয়ের বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয় নির্দেশনায়।
কিন্তু আইন অনুযায়ী তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা। বহুল আলোচিত এই আইনটি গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই আইনের ১৬ থেকে ২৩ ধারা পর্যন্ত গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ও প্রক্রিয়া বলা। ২৪ ধারায় রেজিস্ট্রেশন বাতিলের বিধান রয়েছে। ২৪(১)-এ বলা হয়েছে, 'আইন বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো শর্তাবলীর শর্ত' লঙ্ঘনে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত ও বাতিল করা যাবে। আইন অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ আদালত রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে পারবেন না। বিআরটিএর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্যানেল শুনানি গ্রহণ করে রেজিস্ট্রেশন বাতিল কিংবা স্থগিত করতে পারবে। কিন্তু তারপরও রয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিলের সুযোগ।
আইনের ৩৪ ধারায় গণপরিবহনের ভাড়ার বিষয়ে বলা হয়ছে। ৩৪(৪) উপধারায় বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি কিংবা আদায় করা যাবে না। এ উপধারা লঙ্ঘনে অনধিক এক মাসের জেল বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। মিটারে চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে আইনে।
সপ্তাহখানেক আগে নির্দেশনা দেওয়া হলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারিমট বাতিল করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইউছুব আলী মোল্লা। তিনি বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়নি কোন ধারায় রেজিস্ট্রেশন, রুট পারিমট বাতিল করতে হবে। প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিআরটিএ তাই করছে। তার দাবি, আইনের ১০২ ও ১১৮ ধারা প্রয়োগ করে বাতিল করা যাবে।
কিন্তু এই দুটি ধারা রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট সংক্রান্ত নয়। ১১৮ ধারায় সরকারি আদেশ মেনে চলার বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে পরিবহন খাতে। তা লঙ্ঘনে অনধিক এক মাসের জেল ও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে ১০২ ধারায়। এ প্রসঙ্গে ইউছুব আলী বলেছেন, আইনে যা রয়েছে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
- বিষয় :
- বাড়তি ভাড়া