ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

নতুন করে রেড জোন ঘোষণা হচ্ছে

বাড়ছে জোনভিত্তিক লকডাউনের আওতা

বাড়ছে জোনভিত্তিক লকডাউনের আওতা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ | ১৩:৫৫

জোনভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ছে। রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে জোনভিত্তিক কার্যক্রম শুরুর পর সবার প্রশ্ন- সারাদেশে কবে নাগাদ এই কার্যক্রম শুরু হবে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ রোববার পর্যন্ত জোনভিত্তিক কার্যক্রমের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এদিকে বিভিন্ন অনলাইন, টেলিভিশনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোনভিত্তিক ভাগের খবর প্রকাশ ও প্রচার হচ্ছে। কিছু গণমাধ্যমে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির উদ্ধৃতি দিয়ে রেড জোনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও ফোকাল পারসন হাবিবুর রহমান খান এ ধরনের খবরকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সমকালকে বলেন, জোনভিত্তিক তালিকা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য সচিব জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সমকালকে বলেন, জোনভিত্তিক কোনো তালিকা আমরা প্রকাশ করিনি। এমন তালিকা আমাদের হাতে পৌঁছেনি।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, করোনা প্রতিরোধে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সভা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মোট ৪৫টি এলাকাকে 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৭ এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকা আছে। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ১০টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে পড়েছে। এর বাইরে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের একাধিক উপজেলাকে রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ : দক্ষিণ সিটির রেড জোনের মধ্যে আছে- যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেণ্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলী, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরিবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচা।
ঢাকা উত্তর :উত্তর সিটির রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত এলাকার মধ্যে গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা ও মিরপুরের নাম রয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন :চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো- চট্টগ্রাম বন্দরের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।
আরও তিন জেলায় রেড জোন :ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে আরও তিন জেলার কিছু এলাকাকে রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গাজীপুরের সব উপজেলাকে রেড জোনের আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর এবং পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় গত ১৪ দিনে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, সেগুলোকে রেড জোন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা হবে প্রতি লাখে ১০ জন।
গতকাল রাত সোয়া ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, সাময়িকভাবে এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। মিরপুরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সমগ্র মিরপুরকে রেড জোনের কথা অনেকে বলছেন। কিন্তু মিরপুরে তো অনেকগুলো অঞ্চল রয়েছে। সব অঞ্চলে তো সংক্রমণ একই রকম নয়। সুতরাং সমগ্র মিরপুরকে লকডাউন করা হবে না। এভাবে অন্য এলাকাগুলোও রয়েছে। কোনো কোনো এলাকার হয়তো একটি গলি লকডাউন করা হবে। সুতরাং এলাকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলেই আমরা কার্যক্রম শুরু করব।
জোনভিত্তিক কার্যক্রম কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন ভাগ করা এলাকাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে না। যখন যেসব এলাকা লকডাউন করা হবে, তখনই সেসব এলাকার নাম প্রকাশ করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, অনেকে বিষয়টি না বুঝে জোনভিত্তিক লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে বলে প্রচার করছেন। জোনভিত্তিক এলাকাগুলোর একটি তালিকা অবশ্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে। কিন্তু তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয় নয়। লকডাউন বাস্তবায়নকারী কমিটি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরাই আগে থেকে তালিকার বিষয়ে জানার এখতিয়ার রাখেন।
মহাপরিচালক বলেন, জোনভিত্তিক লকডাউনের বিষয়টি অনেকটা পরিবর্তনশীল। করোনা পরিস্থিতির অবনতি এলাকা এমনিতেই রেড জোনে যুক্ত হয়ে যাবে। আর রেড জোনে থেকে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটালে চলে যাবে ইয়েলো বা গ্রিন জোনে। ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, লকডাউন কার্যকর করার আগে খুব কম সময় পাবেন এলাকাবাসী। তবে লকডাউন কার্যকর করার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট কমিটি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি কয়েক দিন আগেই জানানো হবে, যাতে তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে।
এদিকে, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের জানান, রেড জোন চিহ্নিত এলাকা লকডাউনের আওতায় ও সাধারণ ছুটি থাকবে। এ ছাড়া আগের শর্তেই সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে।
তিনি বলেন, জোনিং করে লকডাউন, এটা খুবই একটা কার্যকর ব্যবস্থা বলে আমরা মনে করছি। একই সঙ্গে চার-পাঁচটি স্থান রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হতে পারে। ফরহাদ হোসেন জানান, রাজধানীর বাইরে জেলাগুলোয় কোনো এলাকা লকডাউন করতে হলে সেই জেলার সিভিল সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই লকডাউন করতে হবে। তিনি জানান, ঢাকার বাইরে যে এলাকায় প্রতি লাখে ১০ জন বা এর বেশি কভিড-১৯ আক্রান্ত থাকবে সেখানেই রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে রোগীর অবস্থান করা জায়গা বা এলাকা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৫ জুনের পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের মতো নির্দেশনাসহ অফিস এবং গণপরিবহন খোলা থাকবে, সে জন্য একটি অর্ডার জারি করা হবে। বর্তমানে যে অবস্থায় চলছে, সবকিছু সেভাবেই চলবে। নতুন করে কোনো ছুটি ঘোষণা করা হবে না। এ-সংক্রান্ত আরও কিছু পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×