করোনা মোকাবিলা
র্যাবের মডেল 'ফিল্ড পদ্ধতি'
×
রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন করোনা আক্রান্ত র্যাব সদস্যরা - সংগৃহীত
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২০ | ১২:০০
এলিট ফোর্স র্যাব করোনা মোকাবিলায় 'ফিল্ড পদ্ধতি' প্রয়োগ করে বেশ সাফল্য পেয়েছে। র্যাবের মোট সংক্রমিতদের মধ্যে ৮০ ভাগ সদস্য এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। র্যাবের প্রায় ১০ হাজার সদস্যের মধ্যে এক হাজার ৮৫০ জনের মতো করোনায় সংক্রমিত হন। আক্রান্তের হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। তবে আশার খবর- তাদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি সদস্য সুস্থ হয়েছেন। তাদের প্রায় সবাই আবার কাজে যোগ দিয়েছেন। র্যাবের নিজস্ব কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং খুব বেশি স্থায়ী চিকিৎসক ও প্যারামেডিকস না থাকলেও শুরু থেকে নিজস্ব একটি পদ্ধতিতে আক্রান্ত সদস্যদের সুস্থ করে তোলার কাজ চালিয়ে যায় র্যাব। জানা গেছে, অ্যাপসের মাধ্যমে সারাদেশের সব ব্যাটালিয়নকে যুক্ত করে করোনা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। কার কী শারীরিক অবস্থা তা মুহূর্তের মধ্যে অ্যাপসে আপডেট হয়ে যায়। কোনো ব্যাটালিয়নে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম দরকার হলে দ্রুত তা সেখানে পৌঁছে যায়। ফিল্ড পদ্ধতি প্রয়োগ করেই কয়েকজন ছাড়া আক্রান্ত প্রায় সব সদস্যকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন সেন্টারে রেখে সুস্থ করে তোলা হচ্ছে। কখনও দরকার হলে এক রোগী তার পাশের বেডের আরেক রোগীকে সেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসক, নার্সের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজন হলে রোগীরাই যাতে রোগীর সেবক হতে পারেন সেই ধরনের মোটিভেশন দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আইসোলেশন সেন্টারে কোন রোগীর কী অবস্থা, তা দেখভাল করার জন্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার জানান, র্যাব করোনা মোকাবিলায় যে ফিল্ড পদ্ধতি অনুসরণ করেছে তা দেশ-বিদেশে প্রশংসা পেয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু যারা একেবারে সংকটাপন্ন তাদেরই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। র্যাবের সব ব্যাটালিয়নে আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসার সব প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। যে কেউ অক্সিজেন সংকটে পড়লে যাতে সর্বোচ্চ ৫ মিনিটের মধ্যে তার কাছে অক্সিজেন পৌঁছে সেটা আমরা করতে পেরেছি। কোন স্টেজে কোনটা প্রয়োজন সেটা সেই জায়গায় সেট করে রাখা আছে। হাসপাতালে না পাঠিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাইল্ড ও মডারেট রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা যায় এটা আমরা করে দেখিয়েছি। এটাকে আমরা বলছি ফিল্ড পদ্ধতির করোনা চিকিৎসা।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি অপারেশনাল কাজে যাতে বিঘ্ন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, জঙ্গিবিরোধী অপারেশন, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে র্যাব।
র্যাবের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুরু থেকে তাদের একটি লক্ষ্য ছিল কোনো র্যাব সদস্য আক্রান্ত হলেই তাকে বিভিন্ন বাহিনীর হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসকদের ওপর চাপ তৈরি না করা। বরং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশনে থেকে রোগীদের সুস্থ করে তোলার ব্যাপারে নজর দেওয়া হয়। আক্রান্ত সদস্যদের মধ্যে যাতে ভয় ঢুকে না পড়ে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা হয়।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু স্থাপনাকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তার মধ্যে ছিল রাজধানীর পল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টার, পূর্বাচলে পিতলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মডেল একাডেমি, ধলপুরে সিটি করপোরেশন কর্মচারী নিবাস। ঢাকার বাইরে রংপুরের আলমনগরে হক কমিউনিটি সেন্টার, কক্সবাজারের রামুতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট সেন্টার পার্ক। এর পাশাপাশি প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি করে আইসোলেশন সেন্টার করা হয়। বসুন্ধরায় স্থাপিত আইসোলেশন সেন্টারকে একমাত্র র্যাব সদস্যরাই কাজে লাগিয়েছেন।
র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, যে পদ্ধতিতে র্যাব করোনা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক জিয়া উদ্দিনও তার প্রশংসা করেছেন। এই পদ্ধতির আলোকে সিলেটে একটি আইসোলেশন সেন্টার হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন।
র্যাব বলছে, আইসোলেশন সেন্টার বা ঘরে বসেই মাইল্ড ও মডারেট রোগীরা যে করোনাকে জয় করতে পারেন- এটার ওপরই র্যাব শুরু থেকে জোর দেয়। রোগীকেও ধারণা দেওয়া হয়, কীভাবে তিনি নিজে নিজেই অক্সিজেন কনসেনট্রেটর লাগাতে পারেন। ডাক্তার ও নার্সের আসার জন্য অপেক্ষা না করে কীভাবে তার চেয়ে একটু খারাপ পাশের রোগীর সেবা করতে পারেন। এসব ছোট ছোট বিষয়ে নজর দিয়ে ভালো ফলও পেয়েছে র্যাব। এখন পর্যন্ত করোনায় র্যাবের তিনজন সদস্য মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দু'জন আগে থেকেই নানা রোগে ভুগছিলেন।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, র্যাবের যেসব সদস্য করোনা জয় করেছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখন প্লাজমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনকে র্যাব প্লাজমা ডোনেট করেছে।
এ ব্যাপারে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার জানান, র্যাব করোনা মোকাবিলায় যে ফিল্ড পদ্ধতি অনুসরণ করেছে তা দেশ-বিদেশে প্রশংসা পেয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু যারা একেবারে সংকটাপন্ন তাদেরই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। র্যাবের সব ব্যাটালিয়নে আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসার সব প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। যে কেউ অক্সিজেন সংকটে পড়লে যাতে সর্বোচ্চ ৫ মিনিটের মধ্যে তার কাছে অক্সিজেন পৌঁছে সেটা আমরা করতে পেরেছি। কোন স্টেজে কোনটা প্রয়োজন সেটা সেই জায়গায় সেট করে রাখা আছে। হাসপাতালে না পাঠিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাইল্ড ও মডারেট রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা যায় এটা আমরা করে দেখিয়েছি। এটাকে আমরা বলছি ফিল্ড পদ্ধতির করোনা চিকিৎসা।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি অপারেশনাল কাজে যাতে বিঘ্ন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, জঙ্গিবিরোধী অপারেশন, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে র্যাব।
র্যাবের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুরু থেকে তাদের একটি লক্ষ্য ছিল কোনো র্যাব সদস্য আক্রান্ত হলেই তাকে বিভিন্ন বাহিনীর হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসকদের ওপর চাপ তৈরি না করা। বরং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশনে থেকে রোগীদের সুস্থ করে তোলার ব্যাপারে নজর দেওয়া হয়। আক্রান্ত সদস্যদের মধ্যে যাতে ভয় ঢুকে না পড়ে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা হয়।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু স্থাপনাকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হয়। তার মধ্যে ছিল রাজধানীর পল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টার, পূর্বাচলে পিতলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মডেল একাডেমি, ধলপুরে সিটি করপোরেশন কর্মচারী নিবাস। ঢাকার বাইরে রংপুরের আলমনগরে হক কমিউনিটি সেন্টার, কক্সবাজারের রামুতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট সেন্টার পার্ক। এর পাশাপাশি প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি করে আইসোলেশন সেন্টার করা হয়। বসুন্ধরায় স্থাপিত আইসোলেশন সেন্টারকে একমাত্র র্যাব সদস্যরাই কাজে লাগিয়েছেন।
র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, যে পদ্ধতিতে র্যাব করোনা মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক জিয়া উদ্দিনও তার প্রশংসা করেছেন। এই পদ্ধতির আলোকে সিলেটে একটি আইসোলেশন সেন্টার হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন।
র্যাব বলছে, আইসোলেশন সেন্টার বা ঘরে বসেই মাইল্ড ও মডারেট রোগীরা যে করোনাকে জয় করতে পারেন- এটার ওপরই র্যাব শুরু থেকে জোর দেয়। রোগীকেও ধারণা দেওয়া হয়, কীভাবে তিনি নিজে নিজেই অক্সিজেন কনসেনট্রেটর লাগাতে পারেন। ডাক্তার ও নার্সের আসার জন্য অপেক্ষা না করে কীভাবে তার চেয়ে একটু খারাপ পাশের রোগীর সেবা করতে পারেন। এসব ছোট ছোট বিষয়ে নজর দিয়ে ভালো ফলও পেয়েছে র্যাব। এখন পর্যন্ত করোনায় র্যাবের তিনজন সদস্য মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দু'জন আগে থেকেই নানা রোগে ভুগছিলেন।
র্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, র্যাবের যেসব সদস্য করোনা জয় করেছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখন প্লাজমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনকে র্যাব প্লাজমা ডোনেট করেছে।
- বিষয় :
- করোনা