খাদ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মোড়কে সতর্কতা বাধ্যতামূলক করার দাবি
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ২১:৩০
দেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) বাধ্যতামূলক করলে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়বে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গণমাধ্যম কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত এফওপিএল-সংক্রান্ত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী, যার ১৯ শতাংশই অকাল মৃত্যু। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার এসব রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের পেছনে থাকা পুষ্টি-তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য জটিল ও দুর্বোধ্য। কিন্তু এফওপিএল চালু হলে পণ্যের সামনেই সহজ সতর্কবার্তা দেখে ভোক্তারা দ্রুত স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত কর্মশালায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বাধ্যতামূলকভাবে এফওপিএল চালুর লক্ষ্যে প্রবিধানমালার খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল বাস্তবায়নের ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমেছে। বাংলাদেশেও এটি চালু করা জরুরি।
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা ভোক্তাকে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচনে সহায়তা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ নীতিনির্ধারকদের ওপর ইতিবাচক চাপ তৈরি করবে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা। দুই দিনের এই কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৫ জন সংবাদকর্মী অংশ নেন।
- বিষয় :
- খাদ্যপণ্য
- নিরাপদ খাদ্য