জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে শিল্পকলায় আর্ট ক্যাম্প
বুধবার সকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’ শিরোনামে এ আর্ট ক্যাম্প শুরু হয়। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ২২:১৮
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি তুলে ধরতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে তিন দিনের আর্ট ক্যাম্প। বুধবার সকাল ১১টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’ শিরোনামে এ আর্ট ক্যাম্প শুরু হয়।
আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এতে ৫৫ জন প্রবীণ ও তরুণ চিত্রশিল্পী অংশ নিয়েছেন। ক্যাম্প চলবে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
তিন দিনের আয়োজনে অংশ নেওয়া শিল্পীরা তাদের ক্যানভাসে তুলে ধরবেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের প্রতিরোধ, স্বপ্ন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার নানা অনুষঙ্গ।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই শিল্পকর্মগুলো শুধু একটি সময়কে স্মরণ করাবে না বরং সমকালীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় ইতিহাস, স্মৃতি ও নাগরিক চেতনাকে নতুনভাবে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবেও বিবেচিত হবে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া অনিয়ম ও অবিচারের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের মাধ্যমে ধারণ করতেই এই আয়োজন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ১৫ জুলাইয়ের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই দিন থেকেই আন্দোলনের মূল গতি তৈরি হতে শুরু করে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের, বিশেষত ছাত্রীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয় এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের ঘটনাবলি ও সংগ্রামের চেতনাকে সমাজে জীবন্ত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে শিল্প। তাই শুধু ছবি আঁকাই নয়, বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা, ইতিহাস ও স্পিরিটকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শিল্পকলা একাডেমির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কেবল প্রদর্শনী আয়োজন নয়; বরং শিল্পের ভাষায় এমন একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া, যা সাধারণ মানুষ সহজে উপলব্ধি করতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ শিল্পীরা যেন দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজ কাছ থেকে দেখার ও শেখার সুযোগ পান, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, জুলাইয়ের চেতনাকে শিল্পের মাধ্যমে ধারণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের ৫৫ জন শিল্পী এই আর্টক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন। এখানে সৃষ্ট শিল্পকর্মগুলো পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হবে, যাতে জুলাইয়ের স্মৃতি শিল্পের ভাষায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছাতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
- বিষয় :
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান
- শিল্পকলা একাডেমি