শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সমকাল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ২০:২৯ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩৫
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে রায় কার্যকর করা হবে। যদি তার আপিল করার কোনো অধিকার থাকে, সেটা আইন আদালত দেখবে।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ স্বৈরাচার হাসিনা একটি দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। ওখান থেকে বড় বড় কথা বলছেন। তিনি বলছেন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। আমরা তো তার প্রত্যাবর্তন চেয়েছি আইনানুগভাবে। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে, ইন্টেরিম গভর্মেন্টের সময় পত্র দেওয়া হয়েছে, আমরা তাগাদাপত্র দিয়েছি। আমরা চাই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে, ফ্যাসিবাদের দোসর মন্ত্রী-এমপিসহ যারা বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করিয়েছি। সেই প্রেক্ষিতেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করি শিগগির তাকে ফিরিয়ে আনতে পারব এবং বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।
তিনি আরো বলেন, খুবই লজ্জিত হই যখন ফ্যাসিবাদী, হত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং তার প্রধান শেখ হাসিনা ও তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের এই গণহত্যার জন্য ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা তো দূরের কথা, জুলাই যোদ্ধাদের তারা অপরাধী হিসেবে তকমা দিচ্ছে। তারা বলছে, জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাদের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই যখন অবস্থা, তারা আবারও বাংলাদেশের রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখে, এর চাইতে ঘৃণিত, লজ্জিত আর কোনো বাক্য হতে পারে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে সেই গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, জুলাই আমাদের চেতনা, জুলাই আমাদের শক্তি। এই জুলাইয়ের কৃতিত্ব যেন আমরা কেউ ব্যবহার না করি, কেড়ে না নিই। এককভাবে কারও কোনো কৃতিত্ব এই জুলাইয়ের নেই। এ দেশের সমস্ত জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে বিএনপি আগে থেকেই ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংস্কার প্রস্তাব একত্রিত করে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে। সেই সনদের আলোকে সংবিধানসহ প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এটি জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ব্যক্তি ও সংগঠন উভয়ের বিচার সম্ভব। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্বাহী আদেশে নয়, আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারণ হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র ধ্বংস, একদলীয় শাসন ও ছাত্ররাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার করতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তিকে ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও রাষ্ট্র পরিচালকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করার সাহস না পায়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।