ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

৩৫৯১ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা

৩৫৯১ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২০ | ১০:০৮ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২০ | ১০:৩৩

গত বছরের তুলনায় ভাল হলেও দেশের তিন হাজার ৫৯১ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়ক ভাঙাচোরা। যা দেশের সড়ক-মহাসড়কের প্রায় ১৮ ভাগ। এর মধ্যে ৯৪৩ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক যান চলাচলের অনুপযুক্ত। 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) মহাসড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ (এইচডিএম) বিভাগের জরিপে এ তথ্য এসেছে।

সারাদেশে ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়কের অবস্থা ভাঙাচোরা থাকলেও ৬৬ শতাংশের অবস্থা ভাল। বাকি ১৫ ভাগের অবস্থা মোটামুটি। আগের বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভাল ছিল। আর প্রায় ২৪ শতাংশ রাস্তা ছিল ভাঙাচোরা। এ হিসাবে এবার উন্নতি হয়েছে সড়ক-মহাসড়কের।

প্রতি বছর সড়ক, মহাসড়কের অবস্থা জরিপ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এইচডিএম। ইন্টারন্যাশনাল রাফনেস ইনডেক্স (আইআরআই) মেনে এ জরিপ করা হয়।

গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত জরিপের পর ২০২০-২১ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে মঙ্গলবার। এতে বলা হয়েছে, ভাঙাচোরা সড়ক পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ২০২০-২১ অর্থবছরে যার ১৪ হাজার ৬২২ কোটি টাকা প্রয়োজন। যার মধ্যে জরুরি প্রয়োজন আট হাজার ৪৬০ কোটি।

তবে চলতি বছরের বাজেটে সওজ বরাদ্দ পেয়েছে দুই হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

সওজ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছরই চাহিদার তুলনায় সামান্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। ফলে সড়ক-মহাসড়কের যথাযথ পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় না। এতে রাস্তা ভেঙে যাত্রীর দুর্ভোগ হয়। তবে যোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গলদ সড়ক নির্মাণে। দুর্নীতি, অনিয়ম করে রাস্তা তৈরি করা হয়। এ কারণেই সড়ক ভাঙাচোরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, পৃথিবীর কোথাও সড়ক নির্মাণে এত অবেহলা করা হয় না, যা বাংলাদেশে হয়। একটি মহাসড়ক ভালভাবে নির্মাণ করলে আট বছর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশে নির্মাণের পরের বছর থেকেই সড়ক মেরামত সংস্কারের দরকার পড়ে। যতদিন এ সংস্কৃতি দূর না হবে, ততদিন সড়কের উন্নতি হবে না।

সওজের অধীনে সারাদেশে প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়ক রয়েছে। তবে বিভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকা সড়ক সওজের হাতে আসায় প্রতি বছরই দৈর্ঘ্য বাড়ছে। সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৯ হাজার ২৮২ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক জরিপ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে হাওর, দ্বীপ ও পার্বত্যঞ্চলের সড়ক জরিপের আওতায় আসেনি।

আইআরআইয়ে সড়ক-মহাসড়ককে ভাল, মোটামুটি, নাজুক, খারাপ ও খুব খারপ- এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। 

সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব সড়ক-মহাসড়ককে খুব খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো আসলে যান চলাচলে অনুপযুক্ত। এ হিসেবে দেশের ৯৪৩ কিলোমিটার সড়ক যান চলাচলের উপযোগী নয়। আগের বছরের জরিপ অনুযায়ী, তখন এমন সড়ক-মহাসড়ক ছিল প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপকৃত তিন হাজার ৭৪২ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের প্রায় ৬৫ শতাংশের অবস্থা ভাল, যা দৈর্ঘ্যে দুই হাজার ৪৩২ কিলোমিটার। ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশের অবস্থা মোটামুটি। বাকি ১৯ শতাংশ অর্থাৎ ৬৭৭ কিলোমিটার মহাসড়ক ভাঙাচোরা। এর মধ্যে মধ্যে ৩৪০ কিলোমিটারের অবস্থা নাজুক। ১৬৯ কিলোমিটারের অবস্থা খারাপ। বাকি ১৭১ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, যা দেশের জাতীয় মহাসড়কের প্রায় পাঁচ ভাগ।

জরিপকৃত চার হাজার ৪৩৭ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৭০ শতাংশের অবস্থা ভাল। যা দৈর্ঘ্যে তিন হাজার ১০৪ কিলোমিটার। ১৪ শতাংশের অবস্থা মোটামুটি। বাকি ১৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়ক ভাঙাচোরা। এর মধ্যে মধ্যে ৩৩৩ কিলোমিটারের অবস্থা নাজুক। ১৭৬ কিলোমিটারের অবস্থা খারাপ। বাকি ১৯৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।

আগের বছরগুলোর তুলনায় উন্নতি হলেও জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের তুলনায় জেলা সড়কের অবস্থা বেহাল। প্রায় ২৩ শতাংশ জেলা সড়ক ভাঙাচোরা। জরিপের আওতায় আসা ১১ হাজার ১০২ কিলোমিটার জেলা সড়কের সাত হাজার ২২০ কিলোমিটারের অবস্থা ভাল। এক হাজার ৪৩ কিলোমিটারের অবস্থা নাজুক। ৫৮৫ কিলোমিটারের অবস্থা খারাপ। বাকি ৫৭৪ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই খারাপ।

সারাদেশে ১০টি জোনে বিভক্ত সওজ। জরিপের তথ্যানুযায়ী, রংপুর জোনের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা সবচেয়ে ভাল। বিভাগের ৮৩ ভাগ সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা ভাল। ৯ ভাগ মোটামুটি। মাত্র এক ভাগের অবস্থা খুব খারাপ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চট্টগ্রামের সড়ক-মহাসড়কের। এ বিভাগের ৫২ শতাংশ রাস্তার অবস্থা ভাল। ৩১ ভাগের অবস্থা খারাপ।


আরও পড়ুন

×