শিগগির রিজেন্টের দুর্নীতি অনুসন্ধানে নামবে দুদক
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২০ | ০৮:৩২
রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিগগির অনুসন্ধানে নামবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষে অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত এসব তথ্য জানান।
দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা বৃহস্পতিবার মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসামগ্রী কেনা ও সরবরাহে দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে করোনাকালে চিকিৎসার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি অনুসন্ধানের বিষয়ে জানান দুদক সচিব।
একই দিনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরকে ডাকা হয়েছিল। তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে সময় চেয়ে আইনজীবির মাধ্যমে কমিশনে আবেদন পাঠিয়েছেন। এই বিষয়ে দুদক সচিব সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করলে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি পাঠাতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেননি। এই কারণে তার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
করোনাকালে স্বাস্থ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও সরবরাহে দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে যখন যাদের প্রয়োজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব আরও বলেন, মাস্ক, পিপিই কেনা ও সরবরাহে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই স্বাস্থ্যসামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির যেসব নথিপত্র পাওয়া গেছে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেগুলো মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, এরই মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতালে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার নামে প্রতারণার মাধ্যমে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ১৭ জন ও অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে আইনশৃংখলা বাহিনী এরই মধ্যে একটি মামলা করেছে। হাসপাতালটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।