ফিরে আসছে ২০১০-এর স্মৃতি
ছবি- এএফপি
নাজমুল হক নোবেল
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৩
২০১০ সালের মতো এবারও স্পেনের বিশ্বকাপ সূচনাটা ভালো হয়নি। ১৬ বছর আগে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছিলেন জাভি-ইনিয়েস্তারা। এবার কেপ ভার্দের মতো নবীন দলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে শুরু করেছিলেন ইয়ামাল-ওয়াইরসাবালরা। কাকতালীয়ভাবে ওই আসরের মতো এবারও টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই শাণিত হচ্ছে স্পেনের খেলা। ওই আসরের মতো এবারও স্পেনের ‘তিকিতাকা’য় মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব। সেমিফাইনালে মহাশক্তিধর ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেওয়ার পর তো স্প্যানিশ ফুটবলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বোদ্ধারা।
১৬ বছর আগে প্রথম ম্যাচ হারলেও পরের দুই ম্যাচ জিতে নকআউট নিশ্চিত করেছিল স্পেন। এবারও প্রায় একই ধাঁচে এগিয়ে চলেছে স্পেন। প্রথম ম্যাচ কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্রয়ের পর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউটে এসেছে তারা। ১৬ বছর আগের মতো এবারও শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারায় তারা। সেবার ভিসেন্তে দেল বক্সের শিষ্যরা কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে ছিল। এবার শেষ আটে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারায় তারা। দুটি জয়ই আসে অন্তিম মুহূর্তে।
তবে ১৬ বছর আগের মতো সেমিতে কিন্তু অন্তিম মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকেনি তারা। সেবার জার্মানির বিপক্ষে ৭৩ মিনিটে গোল করেছিলেন কার্লোস পুয়োল। এবার তো খেলার বয়স ঘণ্টা পেরোনোর আগেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও ২০১০ ফিরিয়ে এনেছেন বলে দাবি করেছেন, ‘ফুটবলাররা দায়বদ্ধতা, একতা এবং নিজেদের প্রতিভা দেখিয়ে দিয়েছে। কঠিন বিষয়কে তারা সহজ করেছে। ওদের সেই মানসিকতা আছে। সাজঘরে প্রত্যেককে হাসিখুশি দেখছি। গোটা দেশ আমাদের পাশে আছে। ২০১০-এর সেই মেজাজ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি আমরা। যারা ম্যাচ খেলতে পারেনি, তারা খেলা শেষে অনুশীলন করেছে। এতেই দলের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও একতা বোঝা যায়।’
বিবিসি রেডিওতে স্পেনের এই পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রিমিয়ার লিগজয়ী সাবেক ফুটবলার ক্রিস সাটন, ‘ফ্রান্সকে কোনো সুযোগই দেয়নি স্পেন। এই টুর্নামেন্টে আমরা ফ্রান্সের বেশ প্রশংসা করেছিলাম। কিন্তু স্প্যানিশদের দক্ষতার কাছে তারা দাঁড়াতেই পারল না।’
ফরাসি কিংবদন্তি রয় কিন আইটিভিতে ফ্রান্সের কঠোর সমালোচনা করেছেন, ‘ফ্রান্স দল হিসেবে খেলতে পারেনি। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। স্পেন দারুণ খেলেছে। তাদের খেলা দেখে আনন্দ পেয়েছি।’ আরেক ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার প্যাট্রিক ভিয়েরাও স্পেনের প্রশংসা করেছেন, ‘ম্যাচের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেখিয়েছে স্পেন। দল হিসেবে দারুণ খেলেছে তারা। তারা ওলিসেকে খেলতেই দেয়নি। কৌশলগতভাবে তারা সেখানেই ম্যাচটা জিতে গেছে।’
স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক গিলেম বালাগে বলেন, ‘দলগত ফুটবলের একটি অনুপম প্রদর্শনী দেখলাম আমরা। তারা সবকিছু পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।’ স্প্যানিশ এ সাংবাদিক জানিয়েছেন, এ ম্যাচ জয়ের প্রস্তুতি বহু আগেই নিয়ে রেখেছিল স্পেন। তাঁর মতে, রদ্রি-ওলমোদের নিয়ে ১০ বছর আগেই এই যাত্রা শুরু করেছিলেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলের দায়িত্বে ছিলেন।
এই রদ্রি-সিমনরা তাঁর কোচিংয়ে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ইউরো জিতেছিল। দীর্ঘদিন তাদের নিয়ে কাজ করায় দলটির খুঁটিনাটি খুব ভালোমতোই জানতেন ফুয়েন্তে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে শিষ্যদের খেলিয়েছেন তিনি। পাসিং ফুটবল দিয়ে ফরাসি ভয়ংকর ত্রিফলা কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলের বলের জোগান বন্ধ করে দেন। এ কারণে মাঝমাঠ থেকে পাস না পেয়ে বেশির ভাগ সময় হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে ফরাসি আক্রমণভাগের তারকাদের। অথচ সেমির আগেও প্রশ্ন ছিল, ফ্রান্সের এই ভয়ংকর ত্রয়ীকে থামাবে কে? ‘তিকিতাকা’য় দে লা ফুয়েন্তে অতি সহজেই বোতলবন্দি করে ফেলেছিলেন ফরাসি আক্রমণভাগকে।
- বিষয় :
- স্পেন
- বিশ্বকাপ ফুটবল