ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

রদ্রি মিডফিল্ড জেনারেল

রদ্রি মিডফিল্ড জেনারেল
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১২:০৪

ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার পর প্রশংসায় ভাসছে স্পেন। অথচ সেমির আগে সবচেয়ে চর্চিত প্রশ্ন ছিল, এই ফ্রান্সকে থামাবে কে? কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে-বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর ত্রয়ী কিনা, সে গুঞ্জনও শুরু হয়েছিল। অথচ স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ‘তিকিতাকা’ কৌশলে এ তিনজন নড়াচড়াই করতে পারলেন না। ফরাসিদের নিষ্ক্রিয় করে রাখায় নেতৃত্ব দিয়েছেন রদ্রি। যুদ্ধক্ষেত্রের জেনারেলের মতো নেতৃত্ব দিয়ে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন তিনি।

স্পেনের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তের সামনে আরেকটি লাইন তৈরি করেছিলেন রদ্রি। ফ্যাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর সমন্বয়ে সেই লাইনের মাধ্যমে মাঝমাঠ থেকে ফরাসিত্রয়ীর কাছে বলের প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন রদ্রি। বল না পেয়ে প্রায়ই হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে এমবাপ্পে, দেম্বেলেদের। বলের জন্য মাইকেল ওলিসে নিচে নেমে আসতে শুরু করেছিলেন। তখন তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান রদ্রি। কাটিয়ে সামনে এগোতে না পেরে হতাশায় একবার রদ্রির পা মাড়িয়ে দিয়েছিলেন ওলিসে। বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি ছোট ছোট পাসে ফরাসিদের রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন ৩০ বছর বয়সী ম্যানসিটির এই মিডফিল্ডার। স্পেনের এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সূত্রধর এই রদ্রি।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪-এর মে পর্যন্ত মোট ৭৪ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গার্দিওলার দলের এই অপরাজেয় যাত্রার নায়ক ছিলেন রদ্রি। মঙ্গলবার রাতে সেই রদ্রির দেখা মিলেছিল। স্পেনের রক্ষণের ওপর তেমন কোনো চাপই পড়তে দেননি তিনি। একেবারে বর্মের মতো আগলে রেখেছিলেন তাদের। মাঝমাঠের দখল নিতে না পেরে বিরতির পর হতাশায় ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম তাঁর দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আদ্রিয়ান রাঁবিওকে তুলে নেন। তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দুই উইং-ব্যাক মার্ক কুকুরেইয়া ও পেদ্রো পোরোর সঙ্গে পাস খেলে উল্টো ফরাসিদেরই ওপরই চাপ তৈরি করেন রদ্রি। স্পেনের এই তিনজন ন্যূনতম ১২.৫ কিলোমিটার করে দৌড়েছেন।

অথচ ২২ মাস আগে এই রদ্রি ভয়াবহ এসিএল চোটে পড়ে লম্বা সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। আর্সেনাল মিডফিল্ডার থমাস পার্টির সঙ্গে সংঘর্ষে লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ার নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। চোট কাটিয়ে ফিরলেও আগের সেই বিধ্বংসী রূপে তাঁকে দেখা যাবে কিনা, সে শঙ্কা ছিল। ফেরার পর ভালো খেলতেও পারছিলেন না। সেই চোটের আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে ম্যানসিটির ‘ট্রেবল’ জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তিনি। যে কারণে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। বিশ্বকাপ সেই পুরোনো রদ্রিকে ফিরিয়ে এনেছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের পর চোটের সঙ্গে লড়াইয়ের সেই দিনগুলোর কথাও বলেছেন রদ্রি, ‘এক পা এক পা করে এগিয়েছি, কোনো তাড়াহুড়ো করিনি। দলের সবাই খুশি, দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি আমরা। এখন আমাদের শান্ত থাকতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে।’   

আরও পড়ুন

×