নিষিদ্ধ ব্যানারে ফিফার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা?
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩৬
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠের বাইরেও নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উসকে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে উদযাপন করতে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের, যা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এই ঘটনায় আর্জেন্টিনাকে শাস্তির আওতায় আনতে পারে ফিফা।
ফুটবলের আইনপ্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রতিযোগিতার মাঠে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক বার্তা প্রদর্শনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান অনুসরণ করে। তাদের আচরণবিধিতে মাঠে রাজনৈতিক স্লোগান, ব্যানার, প্রতীক কিংবা অনুরূপ বার্তা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা, ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ফিফার শৃঙ্খলা বিধিতে রয়েছে। তবে কোনো ঘটনার শাস্তি কী হবে, তা নির্ধারণ করা হয় তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে।
কী ঘটেছিল সেমিফাইনালের পর?
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে জিওভানি লো সেলসো ও নিকোলাস ওটামেন্ডির হাতে দেখা যায় একটি ব্যানার। সেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’। বাংলায় যার অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) আর্জেন্টিনার’।
ব্যানারটির পাশে দাঁড়িয়ে উদযাপন করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, হুলিয়ান আলভারেজসহ দলের অন্য ফুটবলাররা। পরে ব্যানারটি গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দিকেও তুলে দেওয়া হয়। অনেক সমর্থকের হাতেও একই ধরনের ব্যানার দেখা গেছে।
ফকল্যান্ড, যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত, সেই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৮২ সালে ৭৪ দিনের যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ এবং ব্রিটেনের ২৫৫ সেনা নিহত হন। যুদ্ধ শেষে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতেই থেকে যায়।
এরপর থেকেই দুই দেশের রাজনৈতিক সেই বৈরিতার ছাপ বারবার পড়েছে ফুটবল মাঠে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথে ফকল্যান্ড ইস্যু প্রায়ই আলোচনায় এসেছে।
কীভাবে এই ব্যানার মাঠে এলো এবং ফুটবলারদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফিফা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ম্যাচটি গ্যালারি থেকে দেখছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফলে বিষয়টি নিয়ে ফিফা কোনো শৃঙ্খলাগত তদন্ত বা ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর ফুটবল বিশ্বের।
কী হতে পারে ফিফার সিদ্ধান্ত?
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ঘটনা তদন্তের পর ফিফা প্রয়োজন মনে করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে সরাসরি টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন সম্ভাবনাকে তারা অত্যন্ত কম বলেই মনে করছেন।
তাদের মতে, তদন্তে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে আর্থিক জরিমানা, আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির ওপর নির্ভর করবে।
এখন ফুটবল বিশ্বের নজর ফিফার দিকেই। ফাইনালের আগে সংস্থাটি এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
- বিষয় :
- ইংল্যান্ড
- আর্জেন্টিনা
- বিশ্বকাপ ফুটবল