উদ্ভিদ
শোভাময়ী সংকর পদ্ম
বর্ষায় ফুটেছে সংকর জাতের গোলাপি পদ্ম লেখক
মৃত্যুঞ্জয় রায়
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | ০০:৫৭ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৫ | ০৮:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
শাওন মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরল। সকালের সেই বৃষ্টির ফোঁটায় পদ্মফুলকে বেশ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে। শেরেবাংলা নগরে জাতীয় বৃক্ষমেলায় একটা স্টলে দেখলাম, কয়েকটা বড় মাটির পাত্রের ভেতর পদ্মগাছ জন্মেছে। চমৎকার গোলাপি ফুল। পাপড়ির ওপর তখনও বৃষ্টির ফোঁটা জমে আছে। স্টলের লোকে বললেন, তাদের কাছে সাদা পদ্মও আছে। সবই বীজের চারা। মনে পড়ছে, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সুলতানপুর গ্রামের উদ্ভিদ সংগ্রাহক তানভীরের জলজ উদ্যানে গিয়েছিলাম গত বছর। সেখানে অনেক চৌবাচ্চার মতো পাকা জলাধারে নানা রকম জলজ গাছ লাগানো রয়েছে। কয়েকটি জলাধারে দেখলাম নানা রঙের পদ্মফুল; শাপলাও আছে। তানভীর বললেন, এ সবই সংকর। অর্থাৎ হাইব্রিড জাতের পদ্ম।
তানভীর ২০১৬ সালে থাইল্যান্ড থেকে ১৪টি পদ্মের সংকর জাত সংগ্রহ করে বাগানে লাগান। এর পর নিজেই যুক্ত হন সংকরায়নের কাজে। তিনি জানান, ফুল খুব ভোরবেলায় ফোটে। তখনই হাতে পরাগায়ন করতে হয়। এক রঙের ফুলের সঙ্গে অন্য রঙের ফুলের রেণু ঘষে তিনি সংকরায়ন করে দেন। এতে যে ফল হয়, সেসব ফলের বীজের চারায় আর মা গাছের মতো একই রঙের ফুল ফোটে না। হয় অন্য রঙের। পাপড়ির চেহারাও হয়ে যায় আলাদা। ব্যাপারটা খুবই মজার।
পদ্মফুলের হাইব্রিড জাতগুলো সাধারণত জাপান, চীন ও থাইল্যান্ডে দেখা যায়। এখন এ দেশে বেশ কিছু নার্সারি ও ব্যক্তিগত বাগানে দেখা যাচ্ছে। অনেকে এখন অনলাইনে এসব ফুলের বীজ বিক্রি করছেন; চারাও বিক্রি হচ্ছে।
কবি কালিদাসের কাব্যে পদ্মফুলের ছড়াছড়ি; সেটা লালপদ্ম। সে পদ্মকে তিনি বলেছেন কহ্নার। কালিদাস তাঁর ঋতুসংহার কাব্যের তৃতীয় সর্গে শরৎ বর্ণনায় লিখেছেন– ‘পদ্মকুমুদ কহ্নারে কাঁপাইয়া তাদের পরশে সুশীতল সমীরণ,/ পত্রলগ্নশিশির বহিয়া আনি করে বায়ূ আজ ব্যাকুল সবার মন।’ পদ্ম বলতে আমরা প্রায় দুই হাজার বছর আগে কালিদাসের কাব্যের লাল বা গোলাপি পদ্মকেই বুঝি। সাদা পদ্মকে বলা হয় শ্বেতপদ্ম। রমনা কালীমন্দির প্রাঙ্গণের পুকুরে লাল ও সাদা পদ্ম ফোটে। বুয়েটের টিচার্স ক্লাবের উদ্যানের একটা ছোট্ট জলাশয়ে গ্রীষ্ম থেকে শরৎ পর্যন্ত মাঝে মাঝে শ্বেতপদ্ম ফোটে। বেশি পদ্ম দেখতে হলে যেতে হবে মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে।
পদ্মের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Nelumbo nucifera, গোত্র নিলাম্বোনেসি। গাছ বাঁচে কয়েক বছর। কাণ্ড দড়ির মতো নলাকার, সবুজ ও দীর্ঘ, লতানো। পাতা গোলাকার। ফুল ও পাতা পানির ওপর ভাসে। শিকড় ও মোথা বা গোড়া থাকে পানির তলে কাদার মধ্যে। একবার কোথাও জন্মানো শুরু করলে যদি সে জলাশয়ে পানি থাকে তো সেখান থেকে পদ্মকে নির্মূল করা মুশকিল। ক্ষুদ্র কাঁটাযুক্ত সরু নলাকার দণ্ড বা বোঁটায় মুকুটের মতো কুঁড়ি হয়। কুঁড়ি ফুটে হয় ফুল। ফুলের পাপড়ি ঝরে গেলে বোঁটার মাথায় কাপের মতো সবুজ ফল হয়। ফলের ভেতর ছোট ছোট কয়েকটা ডিম্বাকার বীজ হয়। বীজ ও মোথা থেকে চারা হয়। পদ্ম আমাদের দেশি গাছ; আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। ভিয়েতনাম ও ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম। তবে তা এই সংকর পদ্ম না; দেশি পদ্ম।
- বিষয় :
- উদ্ভিদ
