নারী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিতে ব্র্যাক ও ইউএন উইমেনের প্রকল্প
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪১
বাংলাদেশে বিভিন্ন দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে নারী ও শিশুরা। সামাজিক সীমাবদ্ধতা, পরিবারের দায়িত্ব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক নারী আশ্রয়কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছান। আবার আশ্রয়কেন্দ্রে গোপনীয়তার অভাব, পর্যাপ্ত আলো ও স্যানিটেশন সুবিধা না থাকায় তারা অনিরাপদ বোধ করেন। এতে তাদের সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নারীর ক্ষমতায়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষাপটে সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিডা) আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জেন্ডার রেসপন্সিভ ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ইন বাংলাদেশ (জিআরডিআরআরআইবি) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় এই প্রকল্প নেওয়া হয়। মঙ্গলবার এ উপলক্ষে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজন করা হয় এক কর্মশালার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মাতিলদা সভেনসন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী গোলাম তৌসিফ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের পরিচালক (দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর উন্নয়ন) ড. লিয়াকত আলী।
জানা যায়, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ জেলা–কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ভোলা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এর লক্ষ্য লিঙ্গসংবেদনশীল জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জেন্ডার ইন হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন ওয়ার্কিং গ্রুপসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বাড়বে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আরও কার্যকর ও সহনশীল হয়ে উঠবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, প্রকল্পটি জাতীয়, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের নীতিমালা ও কার্যক্রমে লিঙ্গভিত্তিক সমতা যুক্ত করা হবে। এর লক্ষ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীসহ সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিকভাবে দেশের সহনশীলতা বৃদ্ধি। অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দুর্যোগে প্রাণহানি কমলেও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেশি। এ জন্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো, কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ঝুঁকি বীমা চালু করা প্রয়োজন।
ইউএন উইমেনের নবনীতা সিনহা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারীরা ইতোমধ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন তাদের আরও শক্তিশালী নেতৃত্বের পর্যায়ে আনা জরুরি।
মাতিলদা সভেনসন বলেন, লিঙ্গসমতা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং অপরিহার্য। সব ধরনের পরিকল্পনায় লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ জরুরি।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী গোলাম তৌসিফ বলেন, নারীরা জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের নেতৃত্ব বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ঝুঁকি কমাতে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে কার্যকর পরিকল্পনা সম্ভব নয়।
সভাপতির বক্তব্যে ড. লিয়াকত আলী বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রতিটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএন উইমেনের কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ দিলরুবা হায়দার। প্রকল্পের লিড আব্দুল লতিফ খান মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
- বিষয় :
- দুর্যোগ মোকাবিলা
