ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের আশ্বাসে ৫২ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন ৯ শিক্ষার্থী

উপাচার্যের আশ্বাসে ৫২ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন ৯ শিক্ষার্থী
×

ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৫:২১

দাবি মেনে নিতে উপাচার্যসহ শিক্ষকদের আশ্বাসে দীর্ঘ ৫২ ঘণ্টা পর অনশন ভেঙেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী। প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে 'অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে গত বুধবার দুপুর ১টা থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার ফলের রস পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। এ সময় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
 
অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন- বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, একই বিভাগের দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহ জান, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ধ্রুব বড়ুয়া, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকায় শুক্রবার ওমর সমুদ্র, সুমাইয়া, ঈশা, ধ্রুব, জাকির, মুগ্ধ ও সুদর্শন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে সুমাইয়া, ধ্রুব ও সুদর্শনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আবুল কাসেম বলেন, ৫২ ঘণ্টা না খাওয়ার ফলে পানির ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের শরীরে লবণ ও শর্করার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। রক্তচাপ ও শর্করা অনেক কমে গেছে। আমরা তাদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি। বর্তমানে সবাই শঙ্কামুক্ত।

অনশন ভাঙার বিষয়ে ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, ‘উপাচার্যের আশ্বাসে আপাতত অনশন স্থগিত করেছি। আলোচনার মাধ্যমে দাবির সুনির্দিষ্ট সমাধানের প্রত্যাশা করছি। দাবি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পেলে আবার কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব আছে। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আকতার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আলোচনা মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক।’

আরও পড়ুন

×