এলআরএফ’র সঙ্গে মতবিনিময় সভা
মামলাজট কমাতে সহায়তা করতে পারে গ্রাম আদালত
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২৩:০৪
তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও জোরালো করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ছোটখাটো অভিযোগ নিষ্পত্তি হলে অনেক মামলাজট অনেক কমে আসবে। সাধারণ মানুষ স্বল্প সময়ে ও সহজে বিচার পাবে। আইন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এরআরএফ) সঙ্গে মতবিনিময় সভার বক্তারা এসব কথা বলেন।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প ‘গ্রাম আদালত ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক সুরাইয়া আখতার জাহান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহফুজা আক্তার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব খোন্দকার মো. নাজমুল হুদা শামিম ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি হাসান জাবেদ। সভায় গ্রাম আদালত আইনের বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থার লিগ্যাল অ্যানালিস্ট মশিউর রহমান চৌধুরী। মুক্ত আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন ইউএনডিপির সিনিয়র গভর্ণনেন্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে দেন জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাষ চক্রবর্তী।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে গ্রাম আদালত কার্যকর রয়েছে। তবে মাঝে এটা সক্রিয় ছিল না। ২০০৬ সালে ভিলেজ কোর্ট আইনের সংশোধন ও বিধিমালা প্রণয়নের পর থেকে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৪ সালেও দ্বিতীয় দফায় সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটিকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে।
তারা বলেন, গ্রাম আদালত প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার মতো কোন আদালত বা আদালত ভবন নয়। এটি কেইস বাই কেইস গঠন হয়। একটি কেইস আসলে এই কোর্ট গঠন করার পর তা সমাপ্ত হলে এই আদালতের কার্যক্রমও সমাপ্ত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ে প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। দেশের ৬১ জেলায় গ্রাম আদালত সক্রিয় আছে এবং এর মাধ্যমে গ্রামের অনেক ছোট খাট বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৯ হাজার মামলা সমাধান করা হয়েছে। আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হতে যাচ্ছে। এর পরে আর প্রকল্পটি থাকছে না। প্রকল্প শেষ হলে সরকার এই কার্যক্রম চলমান রাখবে।
তারা বলেন, গ্রাম আদালত ও স্থানীয় সালিশ ব্যবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা অনেক সময়ই এই দুটো বিষয়কে এক করে ফেলি। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম আদালতের জনসচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। এই সচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম। গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও জোরালো করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ বাঁচবে। রক্ষা পাবে সামাজিক সম্প্রীতিও।
- বিষয় :
- মামলাজট
- গ্রাম আদালত
