মামলাজট কমাতে সহায়তা করতে পারে গ্রাম আদালত
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:৩৯ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৫৬
গ্রাম আদালতে ছোটখাটো অভিযোগ নিষ্পত্তি হলে অনেক মামলা কম হবে। মানুষ স্বল্প সময়ে ও সহজে বিচার পাবে। আর এতে কমবে মামলাজটও। গতকাল বুধবার আইন, বিচার ও মানবাধিকারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প ‘গ্রাম আদালত ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক সুরাইয়া আখতার জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহফুজা আক্তার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব খোন্দকার মো. নাজমুল হুদা শামীম ও ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি হাসান জাবেদ। সভায় গ্রাম আদালত আইনের বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থার লিগ্যাল অ্যানালিস্ট মশিউর রহমান চৌধুরী। মুক্ত আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন ইউএনডিপির সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাষ চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে গ্রাম আদালত কার্যকর রয়েছে। তবে মাঝে এটা সক্রিয় ছিল না। ২০০৬ সালে ভিলেজ কোর্ট আইনের সংশোধন ও বিধিমালা প্রণয়নের পর থেকে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৪ সালেও দ্বিতীয় দফায় সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটিকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। তারা বলেন, গ্রাম আদালত প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার মতো কোনো আদালত বা আদালত ভবন নয়। এটি কেইস বাই কেইস গঠন হয়। একটি কেইস এলে এই কোর্ট গঠন করার পর তা সমাপ্ত হলে এই আদালতের কার্যক্রমও সমাপ্ত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প চলমান। বর্তমানে প্রকল্পটি তৃতীয় পর্যায়ে। দেশের ৬১ জেলায় গ্রাম আদালত সক্রিয় আছে এবং এর মাধ্যমে গ্রামের অনেক ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৯ হাজার মামলা সমাধান করা হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হতে যাচ্ছে।
- বিষয় :
- মামলা
- গ্রাম আদালত
