ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাত ১০টার পর মলচত্বরে ছাত্রীদের প্রতিবাদী ‘আড্ডা’

রাত ১০টার পর মলচত্বরে ছাত্রীদের প্রতিবাদী ‘আড্ডা’
×

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে শনিবার রাত ১০টার পরে এক ছাত্রী প্রবেশ করতে গিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির বাধার মুখে পড়েন। ঘটনায় প্রতিবাদে রোববার রাত ১০টার পর একদল ছাত্রী মলচত্বরে আড্ডায় অংশ নেন। ছবি: সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:২৫ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৪:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে শনিবার রাত ১০টার পরে এক ছাত্রী প্রবেশ করতে গিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির বাধার মুখে পড়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রোববার রাত ১০টার পরে সেখানে আড্ডায় অংশ নিয়েছেন একদল ছাত্রী।

এদিকে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ।

 নারী শিক্ষার্থীরা গতকাল রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে মল চত্বরে ফোয়ারার সামনে আসেন। তারা একটি কেক কাটেন। পরে কিছু সময় আড্ডা দিয়ে চলে যান। এ সময় ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা বলেন, ‘নিরাপত্তা ইস্যুটা সবার জন্য প্রযোজ্য। এটা শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে হয় বিষয়টা তো ওরকম না। অনেক মেয়ের বাসা দূরে। উত্তরবঙ্গ থেকে যারা আসে, তাদের হলে পৌঁছাতে সাত ঘণ্টা আট ঘণ্টা লাগে। কিন্তু হল গেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাত ১০টায়। এর পরে তারা কী করবে?’ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন বলেন, আমরা এখানে আড্ডা দিচ্ছি। স্বাভাবিকভাবে আমরা আড্ডা দিতে পারি।  

 প্রক্টরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শনিবার রাতে মল চত্বরে প্রবেশের সময় এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। নারী শিক্ষার্থীদের রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগত ও ভবঘুরেদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

শনিবার রাতে ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ভালনারিবিলিটি স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান গয়না মল চত্বরে প্রবেশ করতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তোলেন। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মল চত্বরে আমরা ঢোকার সময় দুইজন গার্ড আমাদের ডেকে বারণ করেন ভিতরে ঢুকতে। তিনি জানলেন নিয়ম হয়েছে উপরের অর্ডারে যে মেয়েরা মল চত্বরে ১০টার পর ঢুকতে পারবে না। এরপর প্রক্টরকে কল দেই। আমি জানালাম যে এই নিয়ম আমাদের অবগত করা হয় নাই কেনো। কারণ আমরা তো হয়রানিতে পড়ছি। জবাবে তিনি জানান, আমরা যেহেতু নোটিশ করিনি আমাদের নিয়ম জানানো হবে।’ পোস্টে ইসরাত জানান, পরে প্রক্টর নিরাপত্তাকর্মীদের তাঁকে এবং তাঁর বান্ধবীকে প্রবেশের অনুমতি দিতে বলেন। তবে তাদের কার্ডের ছবি তুলতে হয় এবং অভিভাবকের ফোন নম্বরও চাইতে বলা হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ফেসবুকে সমালোচনা হয়। এ ঘটনায় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেছেন, এসব অদ্ভুত নিয়মের অবশ্যই সমাধান করা হবে। হলে প্রবেশের সময়সীমা ও পরিচয় শনাক্তকরণ বিষয়ে পাঁচ ছাত্রী হলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করা হবে। 

আরও পড়ুন

×