ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অবৈধভাবে মাছ শিকার ঠেকাতে থাকবে ড্রোন-স্পিডবোট

অবৈধভাবে মাছ শিকার ঠেকাতে থাকবে  ড্রোন-স্পিডবোট
×

বরিশাল ব্যুরো, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  ও রামগতি সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রজনন নিরাপদ করতে ইলিশ নিধনে নদী-সাগরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার মধ্যরাতে। যা শেষ হবে আগামী ২৫ অক্টোবর। এই সময়ের মধ্যে নদী-সাগরে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ। মা ইলিশের নিরাপত্তায় এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও অন্য মাছ আহরণে নেমে জেলেরা ইলিশ শিকার করতে পারেন– এমন আশঙ্কায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ইলিশ সারাবছর ডিম দেয়। তবে ৮০ ভাগ মা ইলিশ ডিম দেয় আশ্বিন মাসে। এই মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে প্রবেশ করে। তাই প্রতিবছর আশ্বিনের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা মাঝে রেখে ২২ দিন নদী-সাগরে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়।

ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ষাটনল থেকে বরিশালের হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ ঘেঁষা মেঘনা নদী। প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মেঘনার এই অংশে নানা অঘটন ঘটে। ইলিশ শিকারে বাধা দিতে গিয়ে হামলার মুখেও পড়েন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বরিশালের হিজলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘বিশাল মেঘনা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। চারটি ড্রোন দিয়ে মেঘনা নজরদারিতে রাখা হবে। দিনের বেলা নদীতে জেলেদের কোনোভাবেই নামতে দেওয়া হবে না। রাতেও অভিযান চলবে। কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, র‍্যাবের সঙ্গে যৌথ অভিযান হবে। অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে সেনাবাহিনীও।’

জেলেদের যত অভিযোগ
ভরা মৌসুমেও এবার মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকার করা যায়নি। এরই মধ্যে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। ফলে লক্ষ্মীপুরের অর্ধলাখ জেলের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। জেলার রামগতি উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট, মতিরহাট, মাতাব্বরহাট, নাছিরগঞ্জ ও লুদুয়া এলাকায় এবার পর্যাপ্ত ইলিশ মেলেনি। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫ হাজার জেলে দুর্ভাবনায় আছেন।
নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য চালসহ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই তা পাননি। বৃহস্পতিবার কথা হয় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাটের জেলে মো. শহীদুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এবারের মৌসুমে জালে ইলিশই জোটেনি। এখন আবার নদীতে নামতে পারব না। ঘরে শিশু সন্তানরা না খেয়ে থাকে।’

একই উপজেলার চরকালকিনির জেলে আবদুল মালেক বলেন, ‘সরকার চাল দিয়েছে শুনি। কিন্তু আমাদের ঘরে কোনো চাল আসেনি। ধারদেনা করে সংসার চলছে। চাল নয়; বরং নগদ টাকা দিলে সংসার চালানো সহজ হতো।’

জেলার রামগতির জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রতিদিন নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হবে। এই সময়ে নিবন্ধিত প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। 

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগেই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সদরের জেলেসহ শতভাগ জেলের মাঝে চাল বিতরণের আশা করছেন। 
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিভাগে নিবন্ধিত জেলে চার লাখ ২১ হাজারের মতো। চালের আওতায় আছেন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ জেলে। তাদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে জনপ্রতি ২৫ কেজি। শনিবার থেকে বিতরণের নির্দেশ হয়েছে।

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানির ভাষ্য, তাঁর উপজেলার ২৬ হাজার জেলে রয়েছে। তাদের সবাইকে ডাঙায় রাখা কঠিন। মেঘনার এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে গেলেই দিন শেষ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা অভিযান চালাবেন। 
মা ইলিশ রক্ষায় এবার প্রযুক্তি ব্যবহার হবে জানিয়ে বরিশাল নৌ পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা বলেন, ড্রোন দিয়ে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দিকে তারা নজর রাখবেন।

ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, মা ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র চাঁদপুরের ষাটনল থেকে বরিশালের হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ ঘেঁষা মেঘনা। এ ছাড়াও রায়পুর-সংলগ্ন মেঘনা, শরীয়তপুরে জাজিরা ও গোসাইহাট-সংলগ্ন পদ্মায় এই মাছ বিচরণ করে। এবার নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের ধাওয়া দিতে প্রতিটি পয়েন্টে স্পিডবোট রাখা হবে।

আরও পড়ুন

×