টিভি বিজ্ঞাপন, নকশিকাঁথায় ২৫ কোটি টাকা হাপিস
আনোয়ার ইব্রাহীম
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫০ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
টিভি বিজ্ঞাপন আর নকশিকাঁথা কেনার ভুয়া বিল-ভাউচার করে সাউথইস্ট ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) ওয়ারেস উল মতিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এর মধ্যে ২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে টিভি বিজ্ঞাপন বাবদ। আর ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের উপহার দেওয়ার জন্য ছয় হাজার ৩৫০টি নকশিকাঁথা কেনা দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। টাকা সরানোর অভিযোগ উঠেছে লজিস্টিকস ক্রয়ের নামেও।
এর মধ্যে ভুয়া লজিস্টিকস ব্যয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওয়ারেস উল মতিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে ব্যাংক। পাশাপাশি চারটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
ওয়ারেস উল মতিন ছিলেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার তিন বছর পর ২০১২ সালে যোগ দেন সাউথইস্ট ব্যাংকে এভিপি পদে। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরের ছায়া পেয়ে ক্রমে পরাক্রমশালী হয়ে ওঠেন তিনি। আলমগীর কবির টানা ২০ বছরের বেশি সময় চেয়ারম্যান ছিলেন। অভ্যুত্থানের পর ওয়ারেস উল মতিনকে চট্টগ্রামে বদলি করা হলে তিনি পদত্যাগ করেন।
ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের তদন্তে দেখা যায়, সিএসআর, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, প্রায়োরিটি ব্যাংকিং, লজিস্টিকস, এজেন্ট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন বিভাগ থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এসব ঘটনায় ওয়ারেস উল মতিনের সম্পৃক্ততা পায় নিরীক্ষা দল।
সাউথইস্ট ব্যাংকের করা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ারেস উল মতিন। তিনি সমকালকে বলেন, ‘চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ডাহা মিথ্যা। আমি হাইকোর্টে রিট করেছি। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছি। অপরাধ করলে তদন্ত চাইতাম না।’
আর্থিক অনিয়মের যত অভিযোগ
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদকে ব্যাংকটি দুর্নীতির যে অভিযোগ দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, জন্মবার্ষিকী ছাড়াও মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন এবং ব্র্যান্ডিংয়ের নামে টিভি বিজ্ঞাপন প্রচার খাতে এক বছরে ২১ কোটি ৯১ লাখ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশন, মাই টিভি, এনটিভি, মাছরাঙা, এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই ও একুশে টেলিভিশনে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো আছে। তবে অন্তত চারটি টিভি চ্যানেলে গিয়ে তদন্ত করে ব্যাংক নিশ্চিত হয়েছে, তাদের কোনো বিজ্ঞাপন এসব চ্যানেলে প্রচার করা হয়নি। এর জন্য তারা কোনো অর্থও পায়নি।
নিরীক্ষায় দেখা যায়, ইনবক্স কমিউনিকেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার দেখানো হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক ওমর শরীফ ভূঁইয়া। ব্যাংকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও সিএসআর বিভাগ থেকেই অধিকাংশ বিজ্ঞাপনের খরচ দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘন এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই ২১ কোটি টাকা খরচ করা হয়। তার মধ্যে উৎসে কর ও ভ্যাট কর্তন শেষে ভেন্ডর ইনবক্স কমিউনিকেশনকে সাউথইস্টের করপোরেট শাখা থেকে ১০৭টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়।
এই পে-অর্ডারগুলো সাউথইস্ট ব্যাংকে ইনবক্স কমিউনিকেশনের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে করপোরেট অ্যাফেয়ার্স এবং সিএসআর বিভাগের মেসেঞ্জার দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে প্রথমে প্রিন্সিপাল শাখায় জমা করানো হয়। পরে দেলোয়ারকে দিয়েই এ টাকা থেকে ১৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ইনবক্স কমিউনিকেশনসের চেকে ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে নগদে তোলা হয়।
অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার স্বীকার করেছেন, তিনি এ টাকা তুলে করপোরেট অ্যাফেয়ার্স এবং সিএসআর বিভাগের তৎকালীন প্রধান ও এসভিপি মোহাম্মদ তানভীর রহমানের অফিস কক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আবার সিএসআর ও সিএ বিভাগের কর্মকর্তা বুলবুল হাসান, নাজমুল আলম, উইলিয়াম কল্যাণ ডি’ক্রুজ এবং রবিউল আলম মৌখিকভাবে নিরীক্ষা বিভাগের তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ইনবক্স কমিউনিকেশনসের স্বত্বাধিকারী ওমর শরীফ ভূঁইয়াকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ষষ্ঠতলায় কখনও দেখেননি। কর্মকর্তারা জেনেছেন, সিএসআর বিভাগের প্রধান এই কাজে বেশি সহায়তা করেছেন। পুরো বিষয় সমন্বয় করেছেন সাবেক এসইভিপি ওয়ারেস উল মতিন– এমন ভাষ্য ছিল সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার।
এ জালিয়াতির বিষয়টি গত জানুয়ারিতে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কুইক সামারি’ প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। তাতে বলা হয়, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বিজ্ঞাপন খাতে ব্যাংকটির ব্যয় ৪৮.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞাপন খাতের ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ইনবক্স কমিউনিকেশনের মাধ্যমে হয়েছে। টাকার অঙ্কে তা ১৮ কোটি ৪০ লাখ। ইনবক্স কমিউনিকেশন ব্যাংকটির বিজ্ঞাপন এজেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। আর্থিক সংকটের সময় ব্যয় কমানোর বিষয়ে ২০২২ সালের সংশ্লিষ্ট সার্কুলার লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে এ বিষয়ে ব্যাংকটির পর্ষদকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানতে চাইলে ওয়ারেস উল মতিন বলেন, টিভিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রমাণস্বরূপ সিডি জমা নেওয়া হয়েছে। আদতে বিজ্ঞাপনগুলো টিভিতে প্রচার হয়েছে কিনা, তা আমার জানার সুযোগ নেই। তা ছাড়া যে বিজ্ঞাপন খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তার ক্ষুদ্র অংশ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের। এই খরচ এমডির স্বাক্ষরে হয়েছে। সেখানে আমরা ছিলাম অনেক নিচের পদে। অনিয়ম করলে ওপরের দায়িত্বশীলরা করেছেন। আমি নীতিনির্ধারক ছিলাম না।
নকশিকাঁথা সরবরাহের নামে আত্মসাৎ
গত মে থেকে জুলাইয়র মধ্যে দুদকে আরও তিনটি অভিযোগ দায়ের করেছে সাউথইস্ট ব্যাংক। গত ১৭ মে দায়ের করা অভিযোগে দেশব্যাপী ব্যাংকের ১১৮টি উপশাখায় বিভিন্ন ভুয়া লজিস্টিকস কাজ দেখিয়ে তিন কোটি ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে এসব কেনাকাটা দেখানো হয়েছে। এ অভিযোগেও ওয়ারেস উল মতিন, তানভীর রহমান ও সোনিয়া আফরোজকে অভিযুক্ত করা হয়।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, এই তিনজন পারস্পরিক যোগসাজশে ব্যাংকটির এক্সট্রিম প্রিমিয়াম স্কিম গ্রাহকদের জন্মদিনের উপহার দেওয়ার নাম করে ছয় হাজার ৩৫০টি নকশিকাঁথা ক্রয় দেখান। এই ক্রয়ে ভুয়া বিল ও চালানের মাধ্যমে ৯টি অস্তিত্বহীন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নামে ভ্যাট, ট্যাক্সসহ মোট এক কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ লাখ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন।
যে ৯ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নকশিকাঁথা ক্রয় দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে আটটির ঠিকানায় গিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব প্রতিষ্ঠানের অফিস খুঁজে পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামপুরে অপর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নবজাগরণীর ঠিকানায় অফিস পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মমতাজ মহল ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানান, সাউথইস্ট ব্যাংককে কোনো নকশিকাঁথা সরবরাহ করেননি তিনি। তাঁর নামে প্রস্তুত করা বিলগুলো ভুয়া।
১১৮টি শাখা-উপশাখার ভুয়া লজিস্টিকস ব্যয়
গত ১৭ মে দুদকের কাছে পাঠানো পৃথক এক অভিযোগে সাউথইস্ট ব্যাংকের ১১৮টি শাখা-উপশাখার জন্য চেয়ার ও সাইনবোর্ড সরবরাহ ছাড়াও বৈদ্যুতিক, সিলিং ও শৌচাগার মেরামত এবং ব্র্যান্ডিং বাবদ ভুয়া বিল, ভাউচার ও চালানের মাধ্যমে তিন কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার কথা জানায়। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ওই বছরের ২৩ অক্টোবর সময়কালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
এ আত্মসাতের ঘটনায় ওয়ারেস উল মতিন, সাবেক ভিপি মশীয়ুর রহমান, সাবেক এভিপি ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ-বিন-রেজা এবং সরবরাহকারী মেসার্স ফেমস এন্টারপ্রাইজের মালিক আরাফাত জাহান, মেসার্স নেক্সট কমিউনিকেশনসের মালিক সুমন মোল্লা এবং মেসার্স রানী এন্টারপ্রাইজের মালিক ফুয়াদ হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওয়ারেস উল মতিন ব্যাংকটির লজিস্টিকস অ্যান্ড জেনারেল সার্ভিসেস বিভাগের প্রধান পদে দায়িত্বকালীন অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকা খরচের নামে ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে ৮০টি শাখা-উপশাখার জন্য সাইনবোর্ড, ব্র্যান্ডিং ও বৈদ্যুতিক মেরামতের নামে দুই কোটি ১৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, ১৮টি শাখা-উপশাখার জন্য চেয়ার, সিলিং মেরামত ও ড্যাম্প দেয়াল রং করার নামে ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২১টি শাখা-উপশাখার জন্য ফলস সিলিং ও শৌচাগার মেরামতের নামে ৬৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ দেখেছে, উল্লিখিত সময়ে মোট ১১৯টি শাখা-উপশাখার নামে এসব খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখা ছাড়া অন্য কোথাও এমন কোনো কাজ করা হয়নি। ১১৮টি শাখা-উপশাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা লিখিতভাবে বা ইমেইলে এ বিষয়টি ব্যাংকের নিরীক্ষা বিভাগকে নিশ্চিত করেছেন।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নেক্সট কমিউনিকেশনস, রানী এন্টারপ্রাইজ ও ফেমস এন্টারপ্রাইজ এসব কাজের জন্য ব্যাংকের নিবন্ধিত ঠিকাদার ছিল না। তারা উল্লিখিত কাজ বা সেবা প্রদানের জন্য দরপত্র দেয়নি। ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী দরপত্রই আহ্বান করা হয়নি। অনুমোদনপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের ছয় কর্মকর্তার মধ্যে পাঁচজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
সাউথইস্ট ব্যাংক দুদককে জানিয়েছে, ওয়ারেস উল মতিনের নির্দেশে মশীয়ুর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার জাহিদের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচারগুলো পাস করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা হয়। ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদে তিন অনিবন্ধিত ঠিকাদারের নামে প্রদানকৃত তিন কোটি ২৫ লাখ ২২ হাজার টাকার মধ্যে দুই কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা পাঁচজন নগদ চেকের মাধ্যমে তুলে নেন। পৃথক তিন প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও চেকগুলো একই ব্যক্তির হাতে লেখা।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে সাবেক কর্মকর্তা মশীয়ুর রহমান স্বীকার করেন, এই ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে লজিস্টিকস ব্যয়ের নামে যে অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, তা উদ্ধারে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন এবং এ বিষয়ে ব্যাংকের যে কোনো ব্যবস্থা মেনে নেবেন।
এ ঘটনায় দুদকে অভিযোগ করার পাশাপাশি ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জজ আদালতে তিন কোটি ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওয়ারেস উল মতিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সাউথইস্ট ব্যাংক।
এ বিষয়ে ওয়ারেস উল মতিন বলেন, ব্যাংকের নামের শেষে লিমিটেডের পরিবর্তে পিএলসি যুক্ত হওয়ার কারণে নতুন করে সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখা-উপশাখাগুলো কেন তা অস্বীকার করছে, তা তিনি জানেন না।
সাবেক চেয়ারম্যানের বক্তব্য
ওয়ারেস উল মতিনের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির দাবি করেন, এসব বিষয়ে শুরুতে কিছু জানতেন না, পরে জেনেছিলেন। জানার পর ব্যবস্থা নিলেন না কেন– এ প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।
চেয়ারম্যান ও এমডির অফিস কক্ষে সিসি ক্যামেরা বসানো এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ওয়ারেস উল মতিনের তাদের ওপর নজরদারির বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর কবির বলেন, কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরার অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি। অন্যরা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বিধায় নিজের কক্ষেও সিসি ক্যামেরা লাগাতে দেন তিনি।
ব্যাংকের এমডি-চেয়ারম্যানের রুমে সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়ে ওয়ারেস উল মতিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারের ভিত্তিতে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়। তবে তিনি কাউকে মনিটর করতেন না।
- বিষয় :
- টাকা আত্মসাৎ
