ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানবাধিকার কমিশন

সরাসরি মামলার বিধান রাখা হয়নি খসড়া অধ্যাদেশে

সরাসরি মামলার বিধান রাখা হয়নি খসড়া অধ্যাদেশে
×

রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় পরামর্শ সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল- সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫৪ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানবাধিকার রক্ষা ও সুশাসন জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করার ক্ষমতা রাখেনি কমিশন। এ খসড়া আইনের আওতায় সংস্থাটি একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করা যাবে বলে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরামর্শ সভায় মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনডিপি) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ঢাকায় সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রেড রেংগলি, ড্যানিশ দূতাবাসের উপপ্রধান এন্ডার্স বি. কার্লসেন, ইউএনডিপির বাংলাদেশ প্রধান স্টেফান লিলারসহ অন্যরা। এতে মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সমাজ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। 

সভাপতিত্ব করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী। অধ্যাদেশ নিয়ে পরামর্শ সভাটি ষষ্ঠ পর্ব। এর আগে সিলেট, খুলনা, কক্সবাজার, রাজশাহী ও রংপুরে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, আপনারা জানেন এখন সেফ এক্সিট নিয়ে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। আমরা উপদেষ্টারা খুব নিশ্চিতভাবে জানি, আমাদের কারও কোনো সেফ এক্সিটের (নিরাপদ প্রস্থান) প্রয়োজন নেই। আমরা গত ১৬ বছর যে দুঃশাসন দেখলাম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেখলাম; আমরা দেখলাম ব্যাংক লুট করে সাধারণ মানুষের আমানত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ অসুস্থ আত্মধ্বংসী রাষ্ট্রকাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে অবশ্যই আমাদের সেফ এক্সিট প্রয়োজন রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টার সেফ এক্সিট দরকার নেই। জাতি হিসেবে আমাদের সেফ এক্সিটের প্রয়োজন আছে। 

আদিলুর রহমান খান বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে মানবাধিকার নিয়ে সঠিক কাজগুলো আমাদের করে যেতে হবে। যাতে আর দেশের মানুষ কখনও অন্যায়-অবিচারের শিকার না হয় বা শিকার হওয়ার সম্ভাবনাগুলোকে আমরা পরাস্ত করতে পারি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, বর্তমান খসড়া অধ্যাদেশে তদন্ত, সুপারিশ, ক্ষতিপূরণ, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, সালিশ ও মধ্যস্থতার মতো উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো কমিশনকে কার্যকর ও সক্ষম করা।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যে দেশে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকে, কালো টাকা, পেশিশক্তির ব্যবহার এমনভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকে, সে দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই আইনের আওতায় একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার যে হাতিয়ারগুলো রয়েছে, সেগুলোর সক্রিয় ভূমিকার জন্য সরাসরি মামলার কোনো বিধান আইনে রাখা হয়নি। 

মানবাধিকারের সংজ্ঞা সংবিধানে দেওয়া নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক যুগে এসে এ আইনে নারী এখনও অনগ্রসর। কমিশনের প্রার্থী হিসেবে যাদের নির্বাচন করবেন, তাদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করবেন। দরখাস্তের ভিত্তিতে যদি কমিশন করতে চান, তাহলে যারা ভালো কাজ করবেন, স্বাধীন চেতনার মানুষ, তারা দরখাস্ত করে এই সব পদে যেতে চাইবেন? এটা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। কমিশনের প্রধান ও কমিশনারগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ ধারায় প্রার্থীর নাগরিকত্ব, প্রার্থীর বয়স– এগুলো চাওয়া হয়েছে। 

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতা ও সমঝোতার জন্য মানবাধিকার কমিশন আলাদা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ দেবে। আপনারা নিজেরাই তো স্বাধীন সংস্থা। সেখানে আলাদা মধ্যস্থতাকারীর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনে সরকারি কোনো ব্যক্তিকে কমিশনের কোনো বৈঠকে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে তলব করা যায়। তাহলে কেউ যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে দেশের বাইরে পালিয়ে যায়, তাকে কি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকতে পারবেন না– বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। 

স্টেফান লিলার বলেন, সরকার, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশে মানবাধিকার অগ্রযাত্রায় একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। 

রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বলেন, সুইজারল্যান্ড সবসময় এমন একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার কমিশনকে সমর্থন করে।

আরও পড়ুন

×