ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সেমিনারে রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক

বাংলাদেশ-কোরিয়ার মধ্যে সেপা চুক্তি হলে সম্পর্ক আরও এগোবে

বাংলাদেশ-কোরিয়ার মধ্যে সেপা চুক্তি হলে সম্পর্ক আরও এগোবে
×

ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। ছবি: সংগৃহীত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ১১:৩৬

দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। তিনি বলেছেন, এ চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর এক‌টি হোটেলে সেমিনারে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে এ কথা বলেন পার্ক ইয়ং সিক। ‘কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের সিএসআর কার্যক্রম এবং একসঙ্গে ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজন করে ঢাকার দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস।

পার্ক ইয়ং সিক বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, কৌশলগত অবস্থান এবং প্রচুর শ্রমশক্তির কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্যস্থল। বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি করতে হবে। আর এর মধ্যে রয়েছে সময়মতো ভিসা প্রদান ও নবায়ন, নির্বিঘ্নে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক হ্রাস, প্রকল্প সমাপ্তির পরে ডলারে বকেয়া অর্থ পরিশোধের সমস্যার সমাধান এবং মুনাফা নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের অনুমতি দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তবে রপ্তানি পণ্যের সীমিত পরিসরের কারণে এর পরিমাণ সন্তোষজনক নয়। জুতা, আইসিটি পণ্য, চামড়ার পণ্য, হালকা শিল্পজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো পণ্যগুলো কোরিয়াতে আরও বেশি রপ্তানি করা যেতে পারে। একটি সেপা চুক্তি কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াবে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক পণ্যগুলো ক্ষেত্রে। 

অবকাঠামো প্রকল্পে বিদেশি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সহায়ক পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা যেমন তৈরি পোশাক খাতে সহযোগিতা করেছি, তেমনি কোরিয়াও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চায়। কোরীয় উদ্যোগগুলো মানসম্পন্ন সরবরাহের জন্য পরিচিত এবং অবকাঠামো উন্নয়নে তাদের অবদান অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। 

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সিএসআর সেন্টারের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান, কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেবিসিসিআই) সভাপতি শাহাব উদ্দিন খান ও দেশটির উন্নয়ন সংস্থা কোইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। ফারুক সোবহান ‘গঠনমূলক ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরিতে সিএসআরের গুরুত্ব’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে দায়িত্বশীল করপোরেট সম্পৃক্ততা কীভাবে আস্থা, সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করে, তা তুলে ধরেন।

সেমিনারে বাংলাদেশে কর্মরত শীর্ষস্থানীয় কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা সিএসআর কার্যক্রম উপস্থাপনা করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এলজি ইলেকট্রনিক্স, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, উরি ব্যাংক, দোহওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইয়ংওয়ান। প্রধান কোরিয়ান এনজিও সেভ দ্য চিলড্রেন কোরিয়া, অক্সফাম কোরিয়া, হ্যাবিট্যাট কোরিয়া, গুড নেইবারস, এডিআরএ কোরিয়া এবং গ্লোবাল কেয়ারের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×