রাসায়নিক সার ৩৫ শতাংশ কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে জোর: কৃষি সচিব
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাটি ও ফসলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারে ভর্তুকি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:১৫
সরকার রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৩২–৩৫ শতাংশ কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি বলেন, মাটি ও ফসলের স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সার নিয়ে সরকার নতুনভাবে ভাবছে এবং এ বিষয়ে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাটি ও ফসলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারে ভর্তুকি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষি সচিব বলেন, বর্তমানে কৃষি বাজেটের ৭০ শতাংশ ভর্তুকি খাতে যায়, যার প্রায় ৮০ শতাংশই রাসায়নিক সারে ব্যয় হয়। কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য—রাসায়নিক সার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এনে জৈব সার ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়ানো। অপব্যবহার রোধ ও ভারসাম্য রাখতে নিবন্ধন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি আরও জানান, ২০৫০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে মন্ত্রণালয়সহ সব অংশীজন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে একযোগে কাজ করতে পারে।
গোলটেবিল আলোচনায় কৃষি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা বলেন, মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জৈব সার উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়া জরুরি।
বারির সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ড. নাজিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি গত পাঁচ দশকে বড় অর্জন করেছে। কিন্তু রাসায়নিক নির্ভরতা মাটির ক্ষয়, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির ঘাটতি ও খাদ্যের পুষ্টিগুণ কমিয়ে দিয়েছে। তিনি প্রস্তাব করেন, প্রতি টন জৈব সারের জন্য ৫ হাজার টাকা প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেওয়া উচিত।
তিনি জানান, দেশে বছরে ৬০–৬৫ লাখ টন জৈব সারের চাহিদা আছে, যার ৭৫ শতাংশ কাঁচামাল ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে পুরো চাহিদা দেশেই পূরণ করা সম্ভব। এতে ১৪ হাজার কৃষি ব্লকে ৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং গ্রামীণ তরুণ উদ্যোক্তারা যুক্ত হবে।
বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) মহাপরিচালক ড. সামিয়া সুলতানা বলেন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের কোনো বিকল্প নেই। রাসায়নিক সার ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার উৎপাদন ও প্রয়োগে গুরুত্ব দিতে হবে।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, জৈব সারভিত্তিক উদ্যোগে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও সচেতনতা বাড়াতে সরকারি, বেসরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
