সেমিনারে অভিযোগ
পোশাকের রপ্তানি আদেশ প্রতিযোগী দেশে যাচ্ছে
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:১৬
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে তৈরি পোশাক খাতে নতুন অনেক কার্যাদেশ প্রতিযোগী দেশে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এ খাতের রপ্তানি কমবে, যা দেশের অর্থনীতিকে বিপদে ফেলবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) আয়োজিত ‘বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময় বাড়ানোর জন্য কাজ করবে, যাতে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতির সুযোগ পান। বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানিবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। এ জন্য অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংক খাত থেকে কিছু ব্যবসায়ী অর্থ লুট করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে আর্থিক খাত নাজুক হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইল ও পোশাক খাত জাতীয় রপ্তানির ৮৫ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে। তারপরও এই খাতের প্রতিনিধি হিসেবে তারা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। নতুন অর্ডার প্রবাহে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।
আলোচনায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, তারা এখন কঠিন সময় পার করছেন। দেশের সার্বিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন রপ্তানি আদেশ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, বিমানবন্দরের জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক বাধা সব মিলিয়ে গার্মেন্টস খাত এখন সংকট ব্যবস্থাপনার খাতে পরিণত হয়েছে। তিনি শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে ৫০ জনের পরিবর্তে ২০ জন শ্রমিকের সীমা নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন।
বিজিবিএর মহাসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, গ্যাস সংকট ও প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সময়মতো পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না, ফলে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হচ্ছেন আকাশ পথে পণ্য পাঠাতে, যা আর্থিক ক্ষতির বড় কারণ। তিনি সরকারের কাছে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানান।
প্রেস সচিব উন্মাদের মতো কথা বলেন : বিটিএমএ সভাপতি
আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ‘উন্মাদের মতো কথা বলেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। প্রেস সচিবকে উদ্দেশ করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সবাই মরে যাচ্ছি, ফ্যাক্টরি বন্ধ হচ্ছে, মানুষ চাকরিচ্যুত হচ্ছে। আপনি কি দেখেন না এসব?’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে এয়ারপোর্ট পোড়ে, সেখানে কি বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার দেবে? এর ইনটেনজিবল (অদৃশ্য) ক্ষতি অনেক বেশি।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন দিয়ে আমাদের মুক্তি দিন।’ প্রেস সচিবকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর একটা পেজ (ফেসবুক পেজ) আছে, উল্টাপাল্টা কথা বলে মানুষকে বিব্রত করেন। সঠিক লোক যদি সঠিক জায়গায় না যায়, তাহলে সঠিক সিদ্ধান্তও হবে না।’
শওকত আজিজ রাসেলের এই বক্তব্যের জবাবে গত রাতে প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘আজ, শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, আমি উন্মাদের মতো কথা বলি। আমার একটি মন্তব্যের জের ধরে তিনি হয়তো এ কথা বলেছেন। আমি তাঁকে উন্মাদ লিখেছিলাম, যখন তিনি প্রকৃত উন্মাদের মতোই কথা বলতেন। হয়তো সেই লেখার পর থেকে তিনি রেগে আছেন’।
এর আগে গত মে মাসে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালে খুঁজে খুঁজে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। ২০২৫ সালে শুধু শিল্প নয়, শিল্পোদ্যোক্তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে– এটাকে আমরা ষড়যন্ত্র মনে করি।’
- বিষয় :
- তৈরি পোশাক
