ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রিজার্ভ চুরিকে পাশে রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একমত ঢাকা–ম্যানিলা

রিজার্ভ চুরিকে পাশে রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একমত ঢাকা–ম্যানিলা
×

ম্যানিলায় বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে তৃতীয় এফওসি বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১৯:০৮

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আটকে ছিল বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যকার সম্পর্ক। এ বিষয়টি পাশে রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একমত ঢাকা ও ম্যানিলা। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্য দীর্ঘ ছয় বছর পর তৃতীয় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে দু’দেশ সার্টিফিকেট স্বীকৃতি সংক্রান্ত সমুদ্র সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ছয় বছর পর গতকাল সোমবার ম্যানিলায় বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে তৃতীয় এফওসি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের দুটিভাগেই বাংলাদেশ পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম। আর ফিলিপাইনের পক্ষে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি (পলিসি) এইচ.ই.মা. হেলেন বি. দে লা ভেগা এবং আন্ডার সেক্রেটারি (মাইগ্রেশন) এইচ.ই. লিও এম. হেরেরা-লিম। বৈঠকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। ফিলিপাইনের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র দপ্তর, বিচার বিভাগ, কৃষি, অভিবাসন, উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ বোর্ড, অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল এবং বেসামরিক বিমানের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। 

বৈঠকটি উষ্ণ, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষ দ্বিতীয় এফওসির পর থেকে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সাইবার-নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা স্টাফ কলেজগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ, শ্রম এবং অভিবাসন প্রশাসনে গভীর সহযোগিতার সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে ফিলিপিনো বিনিয়োগ এবং আশিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলোও আলোচনা করেছে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় এসেছে।

বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে এসটিসেডাব্লু কনভেনশন, ১৯৭৮ (সংশোধিত) এর অধীনে সার্টিফিকেট স্বীকৃতি সংক্রান্ত সামুদ্রিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে এতে সই করেন সচিব নজরুল ইসলাম। আর ফিলিপাইনের পক্ষে সই করেন মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটির অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সোনিয়া বি. মালাসুয়ান।
এফওসি বৈঠকের পর ড. মো. নজরুল ইসলাম ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এইচ.ই. মা. থেরেসা পি. ল্যাজারো এবং অভিবাসন বিষয়ক সচিব এইচ.ই. হ্যান্স লিও জে. ক্যাকডাকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধার জন্য দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে। নজরুল ইসলাম দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতিতে ভবিষ্যতে সহযোগিতা উন্নয়নে টিইএসডিএ পরিচালিত একটি কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের জন্যও নির্ধারিত আছেন। উভয় পক্ষই আস্থা প্রকাশ করে যে এই বৈঠকের ফলাফল আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সহজতর করবে।

নাম না প্রকাশের শর্তে বৈঠকে উপস্থিত একজন সমকালকে জানান, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কারণে থমকে ছিল। এ দীর্ঘ সময় সম্পর্ক ভালোও হয়নি বা খারাপও হয়নি। তবে এবার দু’পক্ষই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একমত। আর রিজার্ভ চুরি বিষয়টি আইন অনুযায়ী চলবে।

আরও পড়ুন

×