ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের কারণ পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি

মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের কারণ পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি
×

তদন্ত কমিটির প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৯:৪৪ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ২০:০৯

পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটির কারণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। বিমানের উড্ডয়নের সময় ত্রুটি ছিল। প্রশিক্ষণের জন্য পাইলট ফ্লাই করার পর পরিস্থিতি তার আয়ত্তের বাইরে চলে যায়।

গত ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

বুধবার তদন্ত কমিটির প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসানসহ একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতেবদনটি জমা দেয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ওই ঘটনায় পাইলটসহ অন্তত ৩৫ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ঘটনা তদন্তে ২৭ জুলাই ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তিন মাস তদন্ত শেষে কমিটি এ রিপোর্ট দেয়। 

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে প্রেস ব্রিফিংকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, তদন্ত কমিটি ১৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা আছেন। সবার সঙ্গে কথা বলে তারা ১৬৮টি তথ্য উদঘাটন করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য তদন্ত কমিটি ৩৩টি সুপারিশ করেছে। প্রধান সুপারিশ হলো, জননিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে বিমানবাহিনীর সব প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে পরিচালিত হবে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘দুর্ঘটনার মূল করণ ছিল পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটি। ট্রেনিংয়ের সময় যখন তিনি ফ্লাই করছিলেন, পরিস্থিতি তার আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। এটা হচ্ছে কনক্লুশন।’
   
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘এই স্কুল রাজউকের বিল্ডিং কোডের অনুমোদনে হয়নি। বিল্ডিংয়ে ন্যূনতম তিনটি সিঁড়ি থাকার কথা ছিল, সেখানে মাইলস্টোনের বিধ্বস্ত বিল্ডিংয়ে ছিল একটি সিঁড়ি, মাঝ বরাবর। বিশেষজ্ঞ কমিটি বলছে, তিনটি সিঁড়ি থাকলে হতাহতের সংখ্যা আরও কম হতো।’

এছাড়া অন্য সুপারিশের মধ্যে বরিশাল ও বগুড়ায় রানওয়ে সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় এ ব্যাপারে তিনি নির্দেশনাও দিয়েছেন। রাজউকের বিল্ডিং কোড যাতে নতুন সম্প্রসারিত এলাকায় পালিত হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
 
প্রেস সচিব বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবাহিনীর বিমানের স্বল্পতা আছে। এয়ারপোর্টের আশেপাশে যেন ‘ফোম টেন্ডার’ (বিশেষ ধরনের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি যা দাহ্য তরল পদার্থে লাগা আগুন নেভাতে ব্যবহৃত হয় থাকে) সে বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এটা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিমানবন্দরে টেক অফ এবং ল্যান্ডিংয়ের জন্য বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে উচ্চতার একটা বিধিনিষেধ আছে। অন্যান্য দেশে দেখা গেছে, টেক অফ এবং ল্যান্ডিংয়ের পথে কিছু স্থাপনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আছে, যেমন হাসপাতাল, স্কুল, ওয়ারহাউজ, ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আছে, এই দিকে যাতে সিভিল এভিয়েশন নজর রাখে, সে বিষয়ে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে অনেক জায়গায় বিমানবন্দর আছে, সেগুলো যাতে ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

আরও পড়ুন

×