ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংবিধান সংস্কার জনগণের মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে: ড. কামাল

সংবিধান সংস্কার জনগণের মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে: ড. কামাল
×

‘বাংলাদেশের সংবিধান ও সংস্কার প্রস্তাব’ শীর্ষক আলোচনা সভা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | ২২:৫৬

গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল। বিগত ৫৩ বছর ধরে এই সংবিধানে নানা পরিবর্তন হয়েছে। এটি সংস্কার একটি সংবেদনশীল বিষয়। এই প্রক্রিয়াটি অবশ্যই জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস উপলক্ষে গণফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সংবিধান ও সংস্কার প্রস্তাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান। 

ড. কামাল বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধান পর্যালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে যে কোনো সংস্কারের সময় আমাদের মনে রাখতে হবে, সংবিধান আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি, বাংলাদেশের সব মানুষের ত্যাগ ও একতাবদ্ধ আকাঙ্ক্ষার ফসল।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিই এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করার অধিকার রাখেন না। সংস্কারের প্রস্তাবগুলোতে অবশ্যই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হতে হবে এবং সমাজের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে আমাদের মৌলিক মূল্যবোধের সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। 

ড. কামাল বলেন, সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ এবং গণতন্ত্রহীনতার জন্য শুধু সংবিধানকে দায়ী করার প্রবণতা থেকে বের হতে হবে। বরং সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র অনুশীলন সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে। বিগত সময়ে দেশের যেসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের ফলে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলো সংস্কার জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে গণতন্ত্র কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে না।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংবিধানে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই। গণভোট করতে হলে সংবিধানের সেই বিধান পরিবর্তন করতে হবে। এই সংশোধনের বিষয়টি সংসদে আলোচনা করে জনগণের মতামত নিয়েই করতে হবে।

তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় গণভোটের বিষয়টিতে মত দেওয়া ছিল বিএনপির উদারতা। জাতীয় ঐকমত্যের স্বার্থে এই উদারতা দেখিয়েছিল বিএনপি, যেটা দেখানো ঠিক হয়নি।

সংবিধানে নেই, তারপরও গণভোট করতে হবে কেন– সেই প্রশ্ন তুলে আমীর খসরু বলেন, তার মানে ‘ডাল মে কুচ কালা হে!’ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে হবে।

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বসে কেউ যদি নিজেদের মতো বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে চালাতে চায়, তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের কোনো পার্থক্য থাকল কি? নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা বাস্তববায়ন করবে বিএনপি। কেউ যদি আর কিছু সংস্কার করতে চান, তবে নির্বাচনে গিয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিবিপি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, জমি কিনেছে দলিল একভাবে লিখে, আর টাকা-পয়সা নিয়ে পরে দলিল বদলে গেছে। জুলাই সনদেও এইভাবে জাতি ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আর এভাবে গণভোট করা মানে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করা, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর এ দেশে অফিস পর্যন্ত করার অধিকার নেই। কেননা, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তাদের সিভিল দোসর জামায়াতেরও আত্মসমর্পণ হয়েছে। 

সভাপতির বক্তব্যে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান অক্ষত রাখতে হবে। এটাতে পরিবর্তনের অধিকার কারও নেই। যদি কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, সেটা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদের মাধ্যমে হতে হবে। 

তিনি বলেন, ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবসে অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিবৃতিও দেয়নি। তার মানে তারা বাহাত্তরের সংবিধান ধারণ করে না। উল্টো এখন সংস্কারের নামে সংবিধান ধ্বংস করতে চাইছে।   

আরও পড়ুন

×