ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কঠিন শর্তের বেড়াজালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

কঠিন শর্তের বেড়াজালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
×

লতিফুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর নতুন উদ্যোগে দেশটির সরকার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য দিয়েছে ১০টি কঠিন শর্ত। তবে এসব শর্তের মধ্যে তিনটি শিথিলের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ৪ নভেম্বর মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

এর আগে গত ৩০ অক্টোবর শর্তগুলোকে অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বর্ণনা করে উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে স্মারকলিপি দেয় জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা।

সূত্র জানায়, অফিসের আয়তন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা– এই তিনটি শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানোর সময়সীমা বাড়ানোরও অনুরোধ করা হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার ১৪ নভেম্বরের মধ্যে এ তালিকা পাঠাতে বলেছিল।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও উপদেষ্টার একান্ত সচিব মুহাম্মদ শওকাত আলী বলেন, ‘আমরা তিনটি শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানিয়েছি। এগুলো থাকলে আগের মতো সিন্ডিকেটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। সরকার চায়, এই বাজার সবার জন্য উন্মুক্ত হোক। গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ নভেম্বরের মধ্যে তালিকা পাঠানোও সম্ভব নয়।’

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়ার শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সির কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের অফিস থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ এজেন্সির এত বড় অফিস নেই। এ ছাড়া প্রতিটি এজেন্সির নিজস্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। অধিকাংশ এজেন্সি বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) প্রশিক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করে। এ কারণে এই দুই শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরেকটি শর্তে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অন্তত তিন হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু আগে মালয়েশিয়ায় মাত্র ১০০টি এজেন্সি কর্মী পাঠানোর অনুমতি পেয়েছিল। ফলে নতুনভাবে অংশ নিতে ইচ্ছুক অনেক এজেন্সির পক্ষে এ শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, মালয়েশিয়া এ শর্তগুলো শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্যও দিয়েছে। এসব দেশও বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশের অনুরোধে তিনটি শর্ত শিথিল করা হবে বলে আশা করছি।
অভিবাসন-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া শর্তগুলো বাস্তবায়ন হলে আবার নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সি বাজার দখল করতে পারে। এতে শ্রমবাজার আবার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গত বছরের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ১৭ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রথম দফায় ৭ হাজার ৮২৩ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে তাদের নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির নির্মাণ ও পর্যটন খাতে তাদের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণ খাতের চাহিদাপত্র পেলেও এখন পর্যন্ত পর্যটন খাতের কোনো চাহিদা বাংলাদেশ পায়নি বলে সমকালকে জানিয়েছেন ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) এমডি সাইফুল ইসলাম। একই সঙ্গে প্রথম ধাপের তালিকা করা ৭ হাজার ৮২৩ কর্মীর মধ্যে মাত্র তিন হাজার কর্মী আবেদন করেছে বলে জানান তিনি। 
সাইফুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়া থেকে চাহিদা পাওয়ার বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জানানোর চেষ্টা করেছি। তাদের মধ্য থেকে মাত্র তিন হাজার কর্মী আবেদন করেছেন। মালয়েশিয়ার কোম্পানি তাদের উচ্চতা, বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্মাণ খাতের জন্য বাছাই করছে। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।  

 

আরও পড়ুন

×