ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এফবিসিসিআইর মতবিনিময় সভা

চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবি ব্যবসায়ীদের

চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবি ব্যবসায়ীদের
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরবরাহ বৃদ্ধি, আমদানি শুল্ক হ্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করারও আহ্বান জানান তারা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা। রমজানে নিত্যপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ সভার আয়োজন করে এফবিসিসিআই।

সংগঠনের নতুন প্রশাসক আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে সভায় নিত্যপণ্যের আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো পণ্য সরবরাহ করে না এবং মোড়ক ব্যবহার করে অতিরিক্ত দাম নেয়। আমদানিকারকরা বলেছেন, কারখানায় গ্যাসের নির্বিঘ্ন সরবরাহ ও শুল্ক কমালে পণ্যের দাম কমবে।
রাজধানীর শ্যামবাজারের কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, করপোরেট ব্যবসায়ীরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তারা বাজারে সময় ও চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করেন না। আবার তিন টাকার পণ্য মোড়কজাত করে ৩০ টাকা নিচ্ছেন। করপোরেটদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রাকে মালপত্র ওঠানোর সময় একবার, নামানোর সময় আরেকবার চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশের দহরম-মহরম সম্পর্ক। সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
কারওয়ান বাজারের আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, দাম ওঠানামা করে সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে। পণ্যের জোগান ঠিক রাখার উদ্যোগ নিলে দাম স্থির থাকবে।

টার্গেট করে অভিযানে যাওয়া সংস্থাগুলো ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে– অভিযোগ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেনের। সভায় মেঘনা গ্রুপের উপব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, গ্যাস সরবরাহ ঠিক থাকলে পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ করতে পারবে কলগুলো। দামও স্বাভাবিক থাকবে।
টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম বলেন, বাজারে দুটি পণ্যের সংকট হয়। রমজানের সময় সরকার চার-পাঁচ লাখ টন চিনি ও ভোজ্যতেল আমদানি করতে পারে। সরকার আমদানি করলে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের ওপর দায় চাপানো এবং সংস্থাগুলোর হয়রানি কমবে। ভুট্টা ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও লিটমন্ড শিপিং লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মিজানুল হক বলেন, বন্দর থেকে পণ্য খালাসে ৪০০ লাইটার জাহাজ দরকার হলেও আছে মাত্র ৪০টি। ফলে বন্দরে পণ্যের জট লেগে যায়। আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যায়। 
এফবিসিসিআইর প্রশাসক আবদুর রহিম খান বলেন, অংশীজনের মতামত ও অভিযোগগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ করা হবে, যাতে তারা চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়।

আরও পড়ুন

×