যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বট আইডি
রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর অভিযোগ
সানফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদনে মৌলভীবাজার থেকে পরিচালিত একটি আইডির কথা তুলে ধরা হয় যাতে দাবি করা হয়েছে, আইডিটি ২০২২ সালে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিরুদ্ধে ট্রাকচালকদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল। (ছবি-নিউইয়র্ক টাইমস)
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:২৪ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:৩৩
সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। যেসব দেশ থেকে এ বট আইডিগুলো পরিচালিত হয়, তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও। কখনও অনলাইনে খুচরা পণ্য বিক্রির প্রচারণার অংশ হিসেবে এগুলো করা হয়, কখনও অন্য কোনো উদ্দেশ্যে। এসব আইডি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সানফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদনে ক্রিস্টল মেরি নামে একটি বট আইডির কথা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এ ফেসবুক আইডিটি ২১ বছরের বাংলাদেশি সাঈদ আহমেদ পরিচালনা করেন। পরিচালিত হতো বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা মৌলভীবাজার থেকে। দাবি করা হয়, ওই আইডি থেকে কনভয় ফ্রিডম-২০২২ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে, যেটি কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিরুদ্ধে ট্রাকচালকদের আন্দোলনকে সমর্থন করে।
২০২২ সালে কানাডার ট্রাকচালকরা ট্রুডোর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। বট আইডি ক্রিস্টলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ট্রুডোর মতো উদারপন্থিদের নিন্দা করে অসংখ্য পোস্ট দিয়েছেন। দ্রুতই তার ফলোয়ার ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব বটের ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য বিভিন্ন দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে। মানুষের পক্ষে আসল-নকলের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোতে তদারকির ব্যর্থতা প্রকাশ করে।
গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে নিউজসাইট গ্রিডের অনুসন্ধানের পর ফেসবুক দুটি বৃহৎ কনভয়পন্থি (ট্রাকচালকদের আন্দোলনের সমর্থক) গ্রুপ সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশিরা এগুলো পরিচালনা করছেন। নিউজ সাইট ক্রিকি জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় যখন ট্রাকচালকদের একটি কনভয় আন্দোলন শুরু হয়, তখন কয়েকটি প্রতারণামূলক ফেসবুক গ্রুপ যাত্রা শুরু করে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি বটদের পরিচালিত গ্রুপও ছিল। এসব গ্রুপের উদ্দেশ্য সব সময় একই নয়।
দ্য ক্রনিকল একটি গ্রুপের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে, যারা পশ্চিমা রাজনৈতিক বিভাজনের সুযোগ নেয় এবং এটিকে উস্কে দেয়। তাদের একমাত্র লক্ষ্য কাস্টমাইজড টি-শার্ট, মগ, টাম্বলার, বল ক্যাপ, টোট ব্যাগ, বালিশ ও ফোন কেসের বিক্রয় বাড়ানো, যার লাভ মার্কিন কোম্পানিগুলো ভাগ করে নেয়।
গিয়ারলঞ্চ নামের প্রতিষ্ঠানের সদরদপ্তর ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটিতে স্থানান্তর করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের একজনকে পাওয়া গেল বাংলাদেশে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ভুয়া আইডি ব্যবহার অন্য লোকজনের ছবি ডাউনলোড করেন।
গিয়ারলঞ্চ বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে বিশাল বিপণন-ঘাঁটি তৈরি করেছে, যেখানে এটি বিপণনকারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সরাসরি গিয়ারলঞ্চের জন্য কাজ করেন না। কিন্তু প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট ফেসবুক গ্রুপ অনলাইনে কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার এসএম বেলাল উদ্দিন ও কোম্পানির গ্লোবাল গ্রোথ ডিরেক্টর এলি ফামসহ অন্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
