মহড়া দিয়ে মনোনয়ন বদলের দাবি
ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে আবদুল আউয়াল মিন্টুর গাড়িবহরে বাধা দেয় বিএনপির একাংশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে দাগনভূঞার জিরো পয়েন্টে সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৯:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত তিন প্রার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার শহরে বিশাল মহড়া দিয়ে তারা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এই আসনের প্রাথমিক প্রার্থী ডা. কে এম বাবর আলীকে জনবিচ্ছিন্ন হিসেবেও আখ্যা দেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জে শহরের গেটপাড়া সড়ক ভবনের সামনে থেকে মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ মিছিল বের করেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। এতে বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে অংশ নেন জেলা বিএনপির সাবেক দুই সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তাজ। আয়োজকের ব্যানারে তাদের পাশাপাশি আরও দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এমপি এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সরদার নুরুজ্জামানের নাম ছিল। তবে এই দুই নেতা কর্মসূচিতে ছিলেন না।
৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন। সেদিন গোপালগঞ্জ-২ আসনে নাম ঘোষণা করা হয় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. কে এম বাবর আলীকে। এর ২৪ দিন পর মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
শোডাউনে অংশ নিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা পাঁচজন প্রার্থী একত্র হয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করার জন্য তারেক রহমানের কাছে আবেদন করছি। প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপ্রাপ্ত ডা. বাবর জনবিচ্ছিন্ন ও অজনপ্রিয় প্রার্থী।’
সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘আমাদের রক্ত ও ত্যাগের ভিত্তিতেই গোপালগঞ্জে বিএনপি টিকে আছে। অথচ যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর নামে একটি মামলাও নেই।’
তৌহিদুর রহমান তাজ বলেন, ‘যাঁর নাম ঘোষিত হয়েছে, তাঁকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ওই প্রার্থী বাদে অন্য যে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে গোপালগঞ্জে জাতীয়তাবাদীদের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।’
আবদুল আউয়াল মিন্টুর পথে বাধা
ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু। বৃহস্পতিবার তিনি দাগনভূঞায় আসেন। এ উপলক্ষে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শোডাউন করেন। পথসভায়ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে এদিন দুপুরে তাঁর কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছেন একাংশের নেতাকর্মীরা। এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই আকবর হোসেন দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদে আছেন। একই পদের প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুল হক রিপন। ওই কমিটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে তা বাতিলের দাবি ওঠে। একাংশের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও অনশন করলেও কেন্দ্রীয় বিএনপি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে দলীয় কোন্দল চরমে উঠেছে। মারামারি, হামলা-মামলার ঘটনাও ঘটেছে। কিছুদিন আগে হামলায় আহত হন যুবদল নেতা এনায়েত উল্যাহ সোহেল। এ ঘটনার জেরে বিএনপি ও যুবদলের চার নেতার নামে মামলা হয়। সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে দাগনভূঞা বাজারে কারামুক্ত তিন নেতা জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুর রহমান রতন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হাসেম বাহাদুর ও ছাত্রদলের নেতা কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল। বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু পথসভা শেষ করে সিলোনিয়া বাজার থেকে বেকেরবাজারে গণসংযোগ করেন। পরে তিনি দাগনভূঞা বাজারে ঢোকার সময় পৌরসভার জিরো পয়েন্টে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে তাঁর বহরকে বাধা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড সরিয়ে দিলে নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজ বাড়িতে যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
এর আগে পথসভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘আমি এই প্রথম নির্বাচন করতে এসেছি। এর আগে আমার বাবা ও ভাইয়ের জন্য নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে এলাকার উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক কাজ করব।’
এ বিষয়ে মাহবুবুল হক রিপন বলেন, ‘আবদুল আওয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নাই। তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ আছে। তাঁকে (মিন্টু) মনোনয়ন দিয়েছে, আমরা সবাই তাঁকে জেতাতে কাজ করব। তিনি সবাইকে নিয়ে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে পারতেন।’
আকবর হোসেনের অভিযোগ, জেলা বিএনপির নেতাদের মদদে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের লোকজন এ হামলা করেছে। এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জোটের নয়, বিএনপির প্রার্থী দাবি
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে জোট থেকে নয়, বিএনপি থেকেই প্রার্থী ঘোষণার দাবি উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এ দাবি তোলেন বক্তারা।
বিকেলে উপজেলা শহরের ডাকবাংলো মাঠের সমাবেশে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা অংশ নেন। সেখানে সভাপতির বক্তব্যে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘দলের দুর্দিনে আমি বাজিতপুর-নিকলী দুই উপজেলাতেই নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থেকেছি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলা মোকাবিলা করেছি। আমিও একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। তাই এ আসনে দলীয় মনোনয়ন আমার প্রাপ্য। জোটের অজুহাতে আমাকে বাদ দিলে আমার প্রতি অবিচার হবে। কারণ আসনটি বিএনপির, এলাকাটি বিএনপির ঘাঁটি, সুষ্ঠু প্রতিটি নির্বাচনে এখান থেকে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে।’ বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বদলে জোটের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপি এ আসন হারাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
