ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জাতীয় সোর্স কোড নীতিমালার খসড়া প্রকাশ

জাতীয় সোর্স কোড নীতিমালার খসড়া প্রকাশ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৩:৫৩

জাতীয় সোর্স কোড নীতিমালা ২০২৫-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সফটওয়্যারকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং জনগণের অর্থে নির্মিত সফটওয়্যারের ওপর জনস্বার্থভিত্তিক মালিকানা, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। যার ট্যাগলাইন ‘পাবলিক মানি, পাবলিক কোড’। বৃহস্পতিবার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব কথা জানিয়েছে।

নীতিমালার প্রধান বিধানসমূহ—

নীতিমালা অনুযায়ী, রাষ্ট্রের বাজেট, বিদেশি ঋণ বা সরকারের অধীনে পরিচালিত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত সফটওয়্যার, তথ্যসেবা, অ্যাপ, তথ্যঘট ও সংশ্লিষ্ট সব ডিজিটাল কার্যক্রম এর আওতায় পড়বে। এটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তরসহ সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা–স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

কেন্দ্রীয় কোড ভাণ্ডার বাধ্যতামূলক
সরকারি অর্থে তৈরি সব সফটওয়্যারের মূল কোড, নকশা ও দস্তাবেজ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল পরিচালিত জাতীয় কোড ভাণ্ডারে সংরক্ষণ করতে হবে। এই ভাণ্ডারে সংরক্ষণ না করা পর্যন্ত কোনো সফটওয়্যার কার্যকর ব্যবহারে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে কোড নিরাপত্তা সুরক্ষায় পৃথক সংরক্ষণব্যবস্থাও করা হবে।

নতুন সফটওয়্যার তৈরির আগে পুনঃব্যবহারকে অগ্রাধিকার
নীতিমালা বলছে—নতুন কোনো সফটওয়্যার তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আগে থেকেই ব্যবহৃত কাছাকাছি উপযোগী সমাধান খুঁজে নিতে হবে। বিদ্যমান সমাধান ব্যবহার না করলে তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।

জনগণের অর্থে তৈরি কোড জনগণের জন্য উন্মুক্ত
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে—রাষ্ট্রের মালিকানাধীন সফটওয়্যারসংশ্লিষ্ট কোড সাধারণভাবে উন্মুক্ত বলে গণ্য হবে।
তবে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা বা গোপনীয়তার মতো বিষয়ে কোনো কোড সীমিত রাখা যেতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে লিখিত যুক্তি, নিবন্ধন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে পর্যালোচনার বিধান রাখা হয়েছে।

নিরাপদ নির্মাণপদ্ধতি, ধারাবাহিক পরীক্ষণ ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ
সফটওয়্যারকে নিরাপদ রাখতে পৃথক মাননির্ধারণ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সব সফটওয়্যার স্থাপনে স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা, দুর্বলতা শনাক্তকরণ, অনুমোদন ও দস্তাবেজ যাচাই বাধ্যতামূলক হবে। কোড ভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার থাকবে ভূমিকা-নির্ভর অনুমতিতে। যারা কোড লিখবেন, সংশোধন করবেন বা পর্যালোচনা করবেন—সবার জন্য সরকারি গোপনীয়তা চুক্তি করা বাধ্যতামূলক।

ডেটাসেট ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় তথ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ
সরকারি সফটওয়্যার–সংশ্লিষ্ট তথ্যসেটকে তিন ভাগে—উন্মুক্ত, সীমাবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত—বিভক্ত করে জাতীয় তথ্য তালিকায় নিবন্ধন করতে হবে। যে সফটওয়্যার তথ্য বিশ্লেষণ, যন্ত্রশিক্ষা বা তথ্য আদান–প্রদানভিত্তিক, সেখানে তথ্যের উৎস, প্রয়োগ ও ব্যবহারবিধি—সব দস্তাবেজ কোড ভাণ্ডারে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। সীমাবদ্ধ তথ্য ব্যবহারে গোপনীয়তা চুক্তি প্রয়োজন হবে।

বাস্তবায়ন ও তদারকিতে নতুন কাঠামো
নীতিমালা বাস্তবায়ন, ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র প্রদানে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করবে। কোড ভাণ্ডার, নির্মাণের পূর্বপরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল পরিচালন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। নীতিমালা অনুসরণে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতি তিন বছর অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী এর হালনাগাদ করা হবে।

আরও পড়ুন

×