সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশের প্রায় কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি
দুর্নীতিবিরোধী দিবসে টিআইবির আলোচনায় ইফতেখারুজ্জামান
ড. ইফতেখারুজ্জামান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশে সংস্কারের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় সরকারি কর্মকর্তা বা আমলাতন্ত্র। সব সংস্কার কমিশন থেকেই আশু বাস্তবায়নযোগ্য কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারকে। কিন্তু প্রায় কিছুই বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাহলে শুধু রাজনৈতিক শক্তিকে দায় দিয়ে কী লাভ?
গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৫ ও এ বছরের দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর টিআইবি কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সংস্থাটি।
‘কর্তৃত্ববাদের পতন– পরবর্তী গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর জাফর সাদিক। প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নিউজ টোয়েন্টি ফোরের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের সাবেক নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, যশোরের দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা, যমুনা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান শেখ সাবিহা আলম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুদক সংস্কার কমিশনে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। রাজনৈতিক দলগুলো শতভাগ একমত হয়েছে যে প্রস্তাবনায়, সেটি হচ্ছে দুদকের স্বাধীনতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবনার মধ্যেই ছিল দুদকের জন্য একটা পর্যালোচনা, বাছাই পর্যালোচনা কমিটি করা হবে। সরকার একটা অর্ডিন্যান্স পাস করে ফেলেছে। সরকার বেশ কিছু বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেছে। এ পর্যন্ত আমি অন্ততপক্ষে আট থেকে ১০টি অর্ডিন্যান্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরেছি। প্রতিটি অর্ডিন্যান্সের ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক বিশ্লেষণ করার পর সরকার রাজি হয়েছে। সবাই বলেছে খুব ভালো পরামর্শ। আমরা এগুলোকে বিবেচনায় নেব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় শতভাগ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’
ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকতায় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেন মান নিশ্চিত হয় এবং পাশাপাশি সাংবাদিকরা অনুপ্রেরণা পায়। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে গণমাধ্যমের পরিবেশ দূষিত করা হয়েছে, যার চর্চা এখনও বিদ্যমান।’
শেখ সাবিহা আলম বলেন, তথ্যই পারে অপতথ্যকে সরিয়ে দিতে। একইভাবে সাংবাদিকতাই অপসাংবাদিকতাকে সরিয়ে দেবে। এর প্রমাণ হলো বিগত বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গণমাধ্যমে ভালো ভালো রিপোর্ট হয়েছে।
শাহনাজ মুন্নী বলেন, গণমাধ্যম কমিশন ও এর সুপারিশ বাস্তবায়নের আলোচনা ইতিবাচক। এর মধ্যেই আমরা চাই আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যেন গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তাবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।
অনুষ্ঠান শেষে টিআইবির দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। এ বছর বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে চার সাংবাদিক ও একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। আঞ্চলিক সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন যশোরের দৈনিক গ্রামের কাগজের ফয়সল ইসলাম এবং আশিকুর রহমান শিমুল। জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন দ্য ডেইলি সানের রাশেদুল হাসান। টেলিভিশন (প্রতিবেদন) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন চ্যানেল ওয়ানের মুফতি পারভেজ নাদির রেজা। টেলিভিশন (প্রামাণ্য অনুষ্ঠান) বিভাগে বিজয়ী হয়েছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’। বিজয়ী প্রামাণ্য অনুষ্ঠানটির জন্য সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট এবং দেড় লাখ টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- বিষয় :
- ড. ইফতেখারুজ্জামান
