ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শেকৃবিতে শেষ হলো তিন দিনের ‘সাহিত্য ও কুয়াশা’ উৎসব

শেকৃবিতে শেষ হলো তিন দিনের ‘সাহিত্য ও কুয়াশা’ উৎসব
×

ছবি: সমকাল

শেকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০:২৭

ডিসেম্বরের নরম রোদ, সন্ধ্যার কুয়াশা আর বইয়ের ঘ্রাণ— এ তিনের মেলবন্ধনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেন তিন দিনের জন্য রূপ নিয়েছিল অনন্য সাহিত্যাঙ্গনে। রাজধানীর এ সবুজ ক্যাম্পাসে গত ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘সাহিত্য ও কুয়াশা’ উৎসব— যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি আর পাঠকের মিলনমেলা জমে উঠেছিল প্রাণের উষ্ণতায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এ উৎসবের আয়োজন করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্বনামধন্য প্রকাশনীর অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী বইমেলা। ২০টির বেশি প্রকাশনীর স্টল ঘুরে ঘুরে বইয়ের খোঁজে ব্যস্ত ছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নানা বয়সের পাঠক।

উৎসবের উদ্বোধন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এ প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে বইমেলা আয়োজিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত আনন্দের। আশা করি, এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।’ 

তিন দিনব্যাপী উৎসবে দেশবরেণ্য কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর। কবি ও কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন সাহিত্যকে মানুষের কাছে নিয়ে যায়। পাঠক তৈরি হয়, আর সেই পাঠকই একদিন বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে তোলে। আমি চাই, এ উৎসব প্রতিবছর হোক।’

জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক ও বাতিঘর প্রকাশনীর প্রকাশক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের মান বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো। এখন দরকার আরও বেশি অনুবাদক, যাতে আমাদের সাহিত্য বিশ্বদরবারে আরও জোরালোভাবে উপস্থিত হতে পারে।’

সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটও গবেষণার পরিধি বাড়াচ্ছে, যাতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিশ্বপরিসরে আরও সুদৃঢ় অবস্থান নিতে পারে।’

সাহিত্যের পাশাপাশি উৎসবে ছিল শীতকালীন সামগ্রী মেলা, কবিতাপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস জুড়ে কবিতা, গান আর আলোর আবেশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দর্শনার্থী ও পাঠকরা এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সভাপতি মেহেদী আকাশ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ উৎসব কেবল একটি আয়োজন নয়, এটি ক্যাম্পাসভিত্তিক সাহিত্যচর্চার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আশা করি প্রতিবছরই এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

আরও পড়ুন

×