ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ৪৩ জন

যাদের গাড়ি নেই তাদের নিরাপত্তায় বিকল্প ভাবা হচ্ছে

এসবি ও ডিএমপি ২১ জনকে গানম্যান বডিগার্ডসহ নিরাপত্তা দিয়েছে

যাদের গাড়ি নেই তাদের নিরাপত্তায় বিকল্প ভাবা হচ্ছে
×

 বিশেষ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:০৬ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৯:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপত্তা বিবেচনায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৪৩ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, জুলাইযোদ্ধা ও সাংবাদিক। রাজনীতিবিদদের মধ্যে কয়েকজন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ১৭ জন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ চারজনকে এরই মধ্যে গানম্যান, বডিগার্ডসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই তাদের কীভাবে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নেওয়া যায়, সেটি নিয়ে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল পুলিশ ও বিশেষ শাখার একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে এ তথ্য জানান। 

নিরাপত্তা আয়োজনে যুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা ১৩ জনের একটি তালিকা ডিএমপির কাছে রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। রিকশা, মোটরসাইকেল, পাবলিক বাস ও মেট্রোরেলে চলাফেরা করেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে অস্ত্রসহ একজন পুলিশ সদস্য তাদের জন্য আলাদাভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেটি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আবার অস্ত্রসহ যে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিতের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ তালিকায় থাকা অনেকেই তরুণ নেতৃত্ব। তার মধ্যে অনেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ। ব্যক্তিগত গাড়ি যাদের নেই, নিরাপত্তার ব্যাপারে এরই মধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। তাদের বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়। ডিএমপি থেকে এরই মধ্যে যে চারজনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে তারা সবাই রাজনৈতিক নেতা। এ ছাড়া এসবি থেকে যে ১৭ জন গানম্যান, বডিগার্ডসহ নিরাপত্তা পেয়েছেন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, জুলাইযোদ্ধা ও সাংবাদিক রয়েছেন। 

১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে। ভোট গ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোটের প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। খুনোখুনি, চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিসংযোগ, একাধিক নির্বাচনী কার্যালয়ের নথিপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যুবরণ করেন। 

এমন পরিস্থিতিতে ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র রক্ষী নিয়োগে এ নীতিমালা করা হয়। 

সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা, গানম্যান অথবা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে এখন পর্যন্ত ১৫ জন রাজনীতিবিদ আবেদন করেছেন। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ২৫ জনের মতো সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। 

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম প্রমুখ। এ ছাড়া অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত মেহেরপুর-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মাসুদ অরুণ, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এসএম জিলানী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনসহ কয়েকজন (হিরু) গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন। ঢাকা-৪ আসনের (যাত্রাবাড়ী) বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী তানভীর আহমেদ (রবিন) ও পাবনা-৩ আসনের হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ। 

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, যারা অস্ত্রের লাইসেন্স চাচ্ছেন তাদের সবাইকে দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী যদি মনে করা হয়, তিনি সত্যিকারভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্ত্রের লাইসেন্স পেলে সেটি নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তখন তার জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে।    

 

আরও পড়ুন

×