ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ওষুধের কাঁচামাল শিল্প উন্নয়নে ধীরগতি

চার মাসেও কর্মপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

চার মাসেও কর্মপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
×

ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২০:২৬

ওষুধের কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো কার্যকর কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এপিআই খাত উন্নয়ন কমিটি’র দ্বিতীয় সভায় এমন তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান।

সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এপিআই শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কার্যকর কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে চলতি মাসের মধ্যেই দিনব্যাপী একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকার গত ১৭ আগস্ট এপিআই শিল্প উন্নয়নে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির দায়িত্ব ছিল ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া। তবে নির্ধারিত সময়ের চার মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। এখনও কোনো নির্দিষ্ট রোডম্যাপও নির্ধারিত হয়নি।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত ওষুধের কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করা হয়, যার বড় অংশ আসে চীন ও ভারত থেকে। ফলে বৈশ্বিক সংকট বা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই বাস্তবতা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে।

ড. হামিদ বলেন, এটি শুধু শিল্পগত সমস্যা নয়, জাতীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ও বটে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশে এপিআই উৎপাদন শুরু করা গেলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এপিআই আমদানি ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ওষুধের বাজার আগামী দশকে ৪২০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই বাজারের মাত্র ১০ শতাংশ দখল করতে পারলে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এপিআই খাতের অবদান হতে পারে প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ।

বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান বলেন, দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য একটি কার্যকর কর্মপদ্ধতি জরুরি। এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই আরেকটি দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে এ মাসের মধ্যেই একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
 

আরও পড়ুন

×